গৌরীপুরে সাগর হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: চুরির অপরাধে কিশোর সাগরকে গাছে ও খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (২অক্টোবর) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চর শ্রীরামপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে, যেখানে সাগরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল সেখানে এলাকাবাসী, গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার উদ্দোগে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানবাধিকার কমিশনের উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোঃ রইছ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির, মানবাধিকার কমিশনের সহসভাপতি মোঃ এমদাদুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল মোমেনীন, দপ্তর সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সার্ডের ম্যানেজার আব্দুল বাছেদ, রাতের সংসদের সভাপতি সামছুল হক, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলী,

মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবু সাইদ আহাম্মদ, চরশ্রীরামপুর এলাকাবাসীর পক্ষে মিয়া হোসেন মুন্সি, মনসুর আলী, হাছেন আলী, মোজাম্মেল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাশেম, আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক, আল ইমরান মুক্তা, কবি সেলিম আল রাজ, শলমা জাহান বীথী, শামছুজ্জামান আরিফ, শামীম আনোয়ার, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন শরীফ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি জানান।

এদিকে সাগর হত্যাকান্ডের মূলহোতা আক্কাছ আলীকে ব্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেফতারের পর ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নিকট হস্তান্তর করে। ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আক্কাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার (৩০সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজ আল আসাদ এর বিশেষ বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে। শুনানী শেষে আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমান আক্কাসকে ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মোবাইল ফোনে আঁড়ি পেতে র‌্যাব-১৪এর একটি চৌকস দল ভৈরবের শম্ভুপুর রেলক্রসিং এলাকা থেকে আক্কাসকে গ্রেফতারে সক্ষম হলেও এ মামলার এজাহারভূক্ত আসামী আক্কাছের ভাই হাসু মিয়া (৩৮), আঃ ছাত্তার ওরফে ছত্তর (৩৫), জুয়েল মিয়া (৩০), সোহেল মিয়া (২০) ও তার অন্যতম সহযোগী তারাকান্দা উপজেলার মলামারা গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র মৎস্য হ্যাচারীর কর্মচারী আব্দুল কাইয়ুম (২০) কে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরছবি দেখে পুলিশ ফজলুর রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন রিজু নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমান জানান, অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে সাদা পোষাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিদিনই সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আসামীদের গ্রেফতার তৎরতা অব্যাহত রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র সাবইন্সপেক্টর পরিমল চন্দ্র দাস পিপিএম আক্কাছ আলীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল গৌরীপুরের চরশ্রীরামপুর গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র থেকে পানির সেই পাম্পটি জব্দ করেছেন।

প্রসঙ্গত পানির পাম্প চুরির অভিযোগে ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে কিশোর সাগর মিয়াকে গাছ ও খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। পানি খেতে চাইলেও দেয়া হয়নি পানি। খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে হ্যাচারীর পাশে কাশবন থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। মর্মস্পশী এ ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আক্কাছসহ তার ৪জন ভাই ও হ্যাচারীর কর্মচারী কাইয়ুমকে আসামী করে মামলা দায়ের করে সাগরের বাবা শিপন মিয়া। সে ময়মনসিংহ রেলওয়ে বস্তিতে থাকতো।

শফিকুল ইসলাম মিন্টু
০১৭১১৪৪১৬৯০