ইপিজেডে রফতানি আয় ৬৫৫ কোটি ডলার

নিউজ ডেস্ক: রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) আয় বেড়েছে। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ইপিজেড থেকে বিভিন্ন পণ্যে রফতানি হয়েছে ৬৫৫ কোটি ডলার। এ সময় রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২০ কোটি ডলার।

ইপিজেডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সূত্রে জানা গেছে, গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ কোটি ডলার বেশি আয় করেছে ইপিজেড। তবে তা আগের অর্থবছরের (২০১৫-১৬) তুলনায় এই আয় ২২ কোটি ডলার কম। সে সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৭৭ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশের কিছু বেশি। বিভিন্ন কারণে বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা কম করে নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, দেশে ইপিজেডের সংখ্যা ৮টি। মোট জাতীয় আয়ে এগুলোর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বেপজার মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, গত অর্থবছরে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি ইপিজেডের বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এ কারণে বেপজা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক সম্পাদিত চুক্তিতে আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ৬২০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রফতানি আয় প্রায় গত বছরের আয়ের ঘর স্পর্শ করেছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশের বিবেচনায় বিশ্ববাজারে দেশের ইপিজেডগুলোর একটি ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে। বেপজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নির্বিঘ্ন উৎপাদন এবং রফতানি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছর ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগও বেড়েছে। এ সময় প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। এতে নতুন করে ২৬ হাজার ৬৩৮ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত বেপজা ইপিজেডগুলোতে চালু শিল্পের সংখ্যা ৪৬৪টি। আরও ১২৭টি শিল্প চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ কোটি ডলার। মোট রফতানি হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্য।

৪ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি ইপিজেডগুলোতে এখন কাজ করছে। বিদেশি শ্রমিক আছে দুই হাজার ২০০ জন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ইপিজেডগুলোতেও তৈরি পোশাকই বেশি উৎপাদন এবং রফতানি হয়ে থাকে। এ ছাড়া পোশাকের এক্সেসরিজ, জুতা, জুতার এক্সেসরিজ, চামড়াজাত পণ্য, চামড়ার এক্সেসরিজ, টেন্ট এবং টেন্ট এক্সেসরিজ, প্লাস্টিক পণ্য, খেলনা, টুপি এবং হ্যাটস, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যসহ ২৫টি শিল্পপণ্য উৎপাদিত হয়।