আজ বিশ্ব বসতি দিবস

নিউজ ডেস্ক: দেশের অন্তত ১ কোটি মানুষ ‘গ্রহণযোগ্য আবাসন’ থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনা গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি। শুধু ঢাকাতেই ছিন্নমূল ও বস্তিবাসীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বিশাল এ ভাসমান জনগোষ্ঠীকে আবাসন সুবিধার বাইরে রেখে বিশ্বের অনেক দেশের মতোই আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘গৃহায়ন নীতিমালা: সাধ্যের বসতি’।

শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ এশিয়ার নয়নাভিরাম দ্বীপরাষ্ট্র। এ অঞ্চলের অনেক দেশের মতো দু’যুগ আগেও দেশটিতে ছিলো তীব্র আবাসন সংকট। সংকট সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদী ও পরিকল্পিত প্রকল্প নেয় সরকার। প্রথম পর্যায়ে ওয়ান মিলিয়ন ও পরে টু মিলিয়ন নামের দুই প্রকল্পে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এগিয়ে আসে বেসরকারি খাতও। এর ফলে দেশটিতে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধান হয়েছে অনেকাংশেই।

রাজধানী ঢাকা। এ শহরে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে মানুষের চাপ। নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসতবাড়ি হারানো তো বটেই; জীবিকা আর সচ্ছলতার টানে রাজধানীর পানেই ছুটছে মানুষ। নিম্ন আয়ের এসব মানুষের জায়গা হচ্ছে বস্তিতে, বা পথের ধারে।

রাজধানীতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের আবাসন চাহিদা নিয়ে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ভাবনা থাকলেও নিম্নবিত্তদের জন্য নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। নগর নিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তিরা বলছেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে গৃহহীনের সংখ্যা।

নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘’দারিদ্র সীমার নিচে মানুষের সংখ্যা কমলেও গৃহহীনদের সংখ্যা কিন্তু কমে নাই বরং কোনো ক্ষেত্রে বেড়েই গেছে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১ কোটি লোক বলা যায় যে গ্রহণযোগ্য আবাসন পাচ্ছে না।

অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, বেশ কিছু প্রকল্প হাতে রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি অতি দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্প মূল্যে দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে আবাসন চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সল্পমধ্যম আয়ের জন্য ইতোমধ্যে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করে ফেলেছি। এছাড়া ছিন্নমূলদের জন্য আমরা ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করব। একেকটা ফ্ল্যাট আয়তন ৫০০ স্কয়ার ফিটের মধ্য হবে। এগুলো একেকটা ১৬তলা বিল্ডিং হবে। দৈনিক ২০০ টাকা করে অথবা মাসে ৬০০০ করে দিলেও হবে।’

সম্প্রতি গৃহায়ন নীতিমালা পাশ করেছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে সবাইকে।

নজরুল ইসলাম বলেন, কাগজে কলমে অঙ্গীকার আছে। একটা ভিশন আছে, নীতি আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর কার্যক্রম দেখা যায় না। গ্রামে কিছুটা দেখা গেলেও শহরে দেখি না।

বাসস্থান নামের মৌলিক এ চাহিদা পূরণের জন্য জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে বসতি দিবস পালনে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব বসতি দিবস।