নিহত সাগরের মা-বাবার হাতে নগদ টাকা ও খাদ্যদ্রব্য তুলে দিলেন ময়মনসিংহের এসপি


মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :
মানবতার হাত বাড়িয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম নিহত কিশোর সাগরের দরিদ্র বাবা-মার হাতে বৃহস্প্রতিবার বিকেলে নগদ দশ হাজার টাকা, চাউল, ডাল, আটা, তেল এবং সাগরের ছোট তিন বোনের হাতে জামা-কাপড় তুলে দিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অপরদিকে গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে উপজেলার ডৌহাখোলা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গৌরীপুর থানা পুলিশমামলার দুই আসামী রিয়াজুল ও ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামী রিয়াজুল ও ফজলুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্ততি মূলক জবান বন্ধি দিয়েছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের চরশ্রীরামপুরে পাম্প চুরির অভিযোগে গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মালিক ও কর্মচারীরা সাগর নামের কিশোরকে খুটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামীদের ভয়ে মামলার বাদী সাগরের পিতা শিপনসহ পুরো পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে, পুলিশ সুপার জানিয়েছেন অল্প দিনের মধ্যে মামলার মূল আসামীদের গ্রেফতার করা হবে এবং আসামীরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেই জন্য এয়ারপোর্ট ও দেশের সীমান্ত গুলিতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরে গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের পানির মটর (পাম্প) চুরির চেষ্টাকালে গত সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে কিশোর সাগরকে আটক করে হ্যাচারীর মালিক আক্কাছ আলী,তার সহযোগী কাইয়ুম ও হ্যাচারির কর্মচারীরা কিশোর সাগরকে খুঁটিতে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মম ভাবে নির্যাতন এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার সময় সাগর কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মরনাপন্ন সাগরকে ্একটি সিএনজি অটোরিক্সায় করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হলে গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মালিক ও কর্মচারীরা লাশ তার হ্যাচারির পাশের কাঁশবনে ফেলে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর কিশোর সাগরের লাশ গতমঙ্গলবার গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের কাঁশবন থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে নিহত কিশোর সাগরের পিতা শিপন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মালিক আক্কাছ আলীসহ ৬জনের নাম উলেখ করে একটি হত্যা মামলা নং-২৯(৯)১৭ইং দায়ের করে। মামলার বাদী কিশোর সাগরের পিতা শিপন বলেন আসামীদের ভয়ে প্রাণ রায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিহত কিশোর সাগরের পরিবার ময়মনসিংহ-দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের ময়মনসিংহ জংশন স্টেশনের আপ স্ট্যাটার এবং ডাউন হোম সিগন্যালের মধ্যবর্তী (নাটক ঘর লেন) রেলওয়ে বস্তিতে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছে।
নিহত কিশোর সাগরের দরিদ্র বাবা শিপন ও মা হাসি বেগমের হাতে বৃহ¯প্রতিবার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম নগদ দশ হাজার টাকা,চাউল ডাল তেল এবং ছোট তিন বোনের হাতে নতুন জামা-কাপড় তুলে দিয়েছেন।
কিশোর সাগরের মা হাসি বেগম বলেন, আমার মত আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয় সেই জন্য আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চায়।কিশোর সাগরের আত্মীয় স্বজন হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সবোর্চ্চ বিচার ফাসি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোহমর্ষক ঘটনা কিশোর সাগর হত্যাকন্ড সেটি নিয়ে সকলেই মর্মাহত এবং প্রশাসনের সকল মহল নড়ে চড়ে বসেছে মন্তব্য করে পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন হত্যা মামলা আপোষ যোগ্য নহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে, মামলার মূল আসামী আক্কাছ ও কাইয়ুম গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বিচারকে সুনিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছি, নিহত কিশোর সাগরের পরিবারের ন্যূনতম ভীতির কোন কারণ নেই।
কিশোর সাগর হত্যাকান্ডের আসামীরা যাতে সবোর্চ্চ শাস্তি পায়,এই শাস্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এ রকম নির্মম হত্যাকান্ড,বিশেষ করে শিশু কিশোরদের বিরুদ্ধে নির্মমতা,অত্যাচার ও হত্যাকান্ড যেন বন্ধ হয় এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম।