জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা ও প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে আসা আর্তপীড়িত রোহিঙ্গাদের প্রতি সম্মানার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছর তার জন্মদিন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কেক কাটা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে যুবলীগ ঢাকা মহানগরীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মিষ্টি বিতরণ করে। রাজধানীসহ সারাদেশে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ, বিশেষ প্রার্থনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়। আর এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত দুই মেয়াদ পূর্ণ করে তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মতো এবারও জন্মদিনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদান শেষে বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। জন্মদিনের দুই দিন আগে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর, সকাল ৬টা) তাঁর গলব্লাডারে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানাসহ ভাগ্নে-ভাগ্নি, নাতি-নাতনীদের সঙ্গে পারিবারিক পরিবেশে জন্মদিন পালন করেন শেখ হাসিনা। তবে সেখানেও ছিল না কোনো কেক কাটা ও আনন্দ উত্সব।

দিবসটি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর গলব্লাডারের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে দোয়া করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এমপি, ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ওলামায়ে কেরাম এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এতে অংশ নেন। দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবং বিভিন্ন প্যাগোডা, গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশের সরকারি হাসপাতালসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ ঘণ্টা বেশি স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। চিকিত্সকেরা আজ সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টার পরিবর্তে ৪টা পর্যন্ত মানুষকে সেবা দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। বাদ আছর প্রেসক্লাবে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থেকে এই ভ্যান ও রিকশা বিতরণ করেন। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটি বন্যা ও দরিদ্র্যপীড়িত মানুষের মধ্যে এই রিকশা ও ভ্যান বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচি উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত নন্দী রায়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে যুবলীগ রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে। সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পক্ষ থেকে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেলিনা ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে এ উপলক্ষে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি লায়ন গনি মিয়া বাবুলের সভাপতিত্বে সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নাভানা আক্তার এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।