গাড়ি চালানোর অনুমতি পাচ্ছেন সৌদি নারীরা

নিউজ ডেস্ক:  গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালাতে আর কোনো বাধা নেই।

মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এ সংক্রান্ত একটি ফরমান জারি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের গাড়ি চালনার সুযোগ দিতে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে মন্ত্রণালয়। বাদশাহর ফরমান কার্যকর হবে ২০১৮ সালের জুন থেকে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে জানানো হয়েছে, রাজকীয় এই আদেশ অনুযায়ী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। প্রয়োজনীয় শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বে একমাত্র সৌদি আরবেই নারীদের গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসার অধিকার ছিল না। বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় কেবল পুরুষদের। এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে প্রকাশ্যে কোনো নারী গাড়ি চালালে তাকে জেল জরিমানার মুখেও পড়তে হয়।

একমাত্র দেশ হিসেবে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার হরণ করে রাখার বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের ভেতরে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছিল। বিনা অনুমতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেও যেতে হয়েছে সৌদিতে। তার ওপর ‘নারীদের গাড়ি চালানোর মতো বুদ্ধি নেই’- সাদ-আল-হিজিরি নামের এক ধর্মীয় নেতার মন্তব্য অসন্তোষ আরও উসকে দেয়।

হিজিরির মন্তব্যের বিরোধিতা করে নারী অধিকার কর্মীরা তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান। রক্ষণশীলরা হিজিরির মন্তব্যকে সমর্থন জানালেও সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও নারীদের অধিকার সংরক্ষণের দাবি ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়।

নারীদের গাড়ি চালানো পক্ষে ক্যাম্পেইনের অন্যতম সংগঠক মানাল আল শরীফ। তাকেও আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর দায়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, সৌদি আরব একই কাজ আর কখনোই করবে না।

সৌদি সরকারের এমন ঘোষণার পর জেদ্দায় সাহার নাসিফ নামের এক কর্মী বিবিসিকে বলেন, তিনি খুবই উদ্দীপিত। তিনি হাসছেন এবং লাফলাফি করছেন। নাসিফ বলেন, ‘আমি আমার স্বপ্নের কার কিনতে যাচ্ছি।’

প্রিন্স খালেদ বিন সালমান বলেন, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নারীদের তাদের পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি নিতে হবে না। নারীরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো জায়গায় গাড়ি চালাতে পারবেন।

সৌদি সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।