হৃদয়ের কথা

নিউজ ডেস্ক : হৃদয়ের অসুখ নয় হৃদয় দেয়া নেয়া নিয়েও চিন্তায় থাকি আমরা।

মন দেয়া নেয়া নয় আক্ষরিক আর্থেই হৃদয়ের অসুখ বা হার্ট ডিজিজ।

হার্ট প্রতিদিন ১০০০০০ বার রক্ত পাম্প করে বা বিট করে। সারা জীবনে এর সংখ্যা দাড়ায় ২.৫ বিলিয়ন বার। হৃদপিন্ড প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৮ টন রক্ত পাম্প করে থাকে।

বুকের ভেতর চাপা ব্যাথা, শ্বাস কষ্ট এবং বুকের ভেতর ধরফর করা সাধারনত হার্ট ডিজিজের মূল লক্ষন। হার্টে রক্ত প্রবাহ বাধা পেলে হার্ট ডিজিজ হতে পারে।

কলেষ্টরেল বা অন্য কারনে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেধে সাধারনত রক্ত প্রবাহে বাধা হয়ে দাড়ায়। এছাড়া হৃদপিন্ড অনেক সময় তার রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন আমরা বলি হার্ট ফেইল করছে।

যে সিগনালের ওপর হার্টপাম্প করার কাজটি নিয়মিত করে সেটি অনেক সময় বন্ধ বা এলোমেলো হয়ে যায় একে বলা হয় হার্ট ব্লক। তবে সাধারন ভাষায় হার্টের রক্তনালী বন্ধকেও হার্ট ব্লক বলা হয়।

চর্বিযুক্ত খাবার , কলেষ্টরেল, ধুমপান, টেনশন এবং অলস জীবন যাপন হার্টের রোগের ঝুকি বাড়ায়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষের হার্ট ডিজিজের ঝুকি বেশী।

ভালো থাকতে চান? স্ত্রীর কথা শুনুন, তাঁর সঙ্গে সময় কাটান।

নিজের হৃদয় ও হৃৎযন্ত্রকে সুস্থ রাখার মোক্ষম দাওয়াই- জীবনসঙ্গীর সঙ্গে অন্তঃরঙ্গ সময় কাটানো ।

গবেষকদের পরামর্শ হচ্ছে, সময় বের করে নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও কিংবা অবসন্ন হয়ে বিছানায় যেতে মন ছটফট করলেও স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটান, ইতিবাচক আলোচনা করুন।

স্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা আপনার হৃৎযন্ত্রকে সুস্থতা নিশ্চিত করবে।

মার্কিন গবেষকরা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন যে, সঙ্গীর সঙ্গে ইতিবাচক কথাবার্তায় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার ভিএ গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস হেলথকেয়ার সিস্টেমের গবেষক নাটারিয়া জোসেফ বলেন, ‘সঙ্গীর সঙ্গে বেশি নেতিবাচক কথাবার্তার সঙ্গে পুরু ক্যারোটিড আর্টারির সম্পর্ক দেখা যায়।

ক্যারোটিড অ্যার্টারি হচ্ছে রক্তনালি যা ঘাড় থেকে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছে দেয়। পুরু ক্যারোটিডের সঙ্গে হৃৎযন্ত্রের নানা সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিতে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, যাঁরা স্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা খুব কম করেন তাঁরা সাড়ে আট শতাংশ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকরা এই গবেষণার জন্য ২৮১ জন মধ্যবয়সী দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, আবেগ, শারীরিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়গুলোর সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে জড়িত থাকে ইতিবাচক কথাবার্তা। এ বিষয়গুলো স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে লাইভ সায়েন্স সাময়িকীতে।

গবেষক জোসেফ অবশ্য বলেছেন, পুরু ক্যারোটিড অ্যার্টেরিসের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের যোগসূত্র থাকতে পারে।