ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্ববাস্তবতা

মো: কামাল উদ্দিন: অতি সম্প্রতি সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমে আমেরিকার অদ্ভুত এক রাষ্ট্র প্রধান নিয়ে খুব তোলপার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেশ আলোচিত। আলোচনার বিষয় রাজনীতি, সংস্কৃতি, আদর্শ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা নানান বিষয়।

অনেক মানুষ হয় তোতার সাথে এক মত নন,তাতে ট্রাম্পের যে কিছু যায় আসেনা তাইতো মধ্যে প্রমানের চেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচেছন। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের উথ্বানের শুরু থেকে অনেকেই বিশ্বাস করতেন মার্কিন সমাজের অর্ন্তরনিহিত বিদ্বেষকেকা জেলাগিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় আরোহন করতে চান। এত ডামাডোল, বৈরীতা, সংঘাত, দুই পরা শক্তির টানা পোড়েন্ এর মধ্যেও নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছেন। ট্রাম্প যে বিশ্বাসে নিজেকে বলিয়ান মনে করেছেন আখেরেসে সবেরই জয় হয়েছে ।

আমেরিকাকে যারা উদার নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার দেশ মনে করে আত্ম তৃপ্তিতে ছিলেন হালে তাদের বিশ্বাসে কিছু হলেও চির ধরেছে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এটা স্পষ্ট হচ্ছে সকল নাগরিকের অধিকার, সামাজিক সমতার বিরুদ্ধেই তার এবং পরামর্শ দাতাদের কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্পএর বর্ণবাদি, শ্বেতাংঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী নীতির পক্ষে তার সকল প্রশাসনকে কাজে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন।

তার দলেরকিছু নেতা প্রকাশ্যে হয়তো সমর্থন দিতে নিজেদের লজ্জিত মনে করছেন, এত কিছুর পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশ্বাসের প্রতি অনড় অবস্থানে আছেন। তার দৃঢ় অবস্থানে থাকার কারন মার্কিন সমাজের মধ্যে কিছু উপাদান অবশ্যই সংরক্ষিত আছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, বর্ণবাদ , বিদ্বেষ, ধর্মীয় গোড়ামী, সামাজিক অসমতা মার্কিন সমাজব্যবস্থার মর্মমূলে অনেকাংশে প্রোথিত আছে যার ব্যবহার রিপাবলিকান রাজনীতিবিদেরা এর আগেও অনেকে ব্যবহার করেছেন।

জনাব ট্রাম্প যেরকম খোলামেলাভাবে তার অবস্থান পরিস্কার করছেন তাতে আখেরে রিপাবলিকানদের মুখ রক্ষা হবেনা বলে অনেকের বিশ্বাস। চলমান পরিস্থিতি লক্ষ করে বড় মাপের নেতৃত্বের মধ্যে হয়তো কিছুটা সম্বিৎ ফিরে আসছে। এতো দিনে চৈতন্যে এসেছে যে ট্রাম্পকে এভাবে সামনে এগিয়ে দেয়া সর্বোপরী প্রেসিডেন্সিয়াল পদেরজন্য তাকে মনোনয়ন দেয়ার কারনে  তারা রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হতেপারে।

মার্কিন সমাজে রক্ষলশীল রাজনীতির প্রাবল্য হয়তো প্রধান নয়তার পরও রিপাবলিকান সাদাসাহেবরা পরোক্ষভাবে নির্বাাচনে সমর্থন দিয়েছেন। হালে ডোনান্ড ট্রাম্পের গৃহীত অনেক নীতির সাথে তার দলীয় মত বিরোধ প্রকট আকারে দেখাদিচ্ছে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে রিপাবলিকান রাজনীতিবিদগণ কিকরবেন তা বলার সময় হয়তোবা এখনও আসেনি অনাগত ভবিষ্যতে বুঝা যাবে কে কোন পথ অনুসরন করেন।

যারা ট্রাম্পের গতিবিধি বুঝতে অক্ষম কিন্তুু বিভিন্ন বিবেচনায় ট্রাম্পকে সমর্থন যুগিয়েছেন/ দিয়ে যাচ্ছেন সেটা হতে পারে আমেরিকা কিংবা তার বাইরে, তাদের জন্য সময় আসছে ঘটনা প্রবাহ অনুধাবন করার।

ট্রাম্প যতই তার দলের সমর্থন হারাচ্ছেন ততই তিনি কট্টর গোষ্ঠির উপর ভরসা রাখতে সচেষ্ট হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা, সামাজিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষনেএটা বলা যায় যে পৃথিবী একটি নতুন ইতিহাসের দ্বারে উপনীত হতে যাচ্ছে। মার্কিন সমাজের বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ এত সব পশ্চাৎ পদতার বিরুদ্ধে সমাজের প্রগতিশীল মানুষ তাদের ভবিষ্যতরু পরেখাকি উপায়ে দেখতে চান, তা হয়তো আগামী সময়ে নির্ধারন করা সম্ভব হতে পারে।

পৃথিবীর রাজনীতি, অর্থনীতি, অনেকাংশে সামাজিক ব্যবস্থাসহ অনেক কিছুই একমুখীধারায় প্রবর্তীত হচ্ছে। এমননি অবস্থায় বিশ্ব মুরুব্বী বলেঅনেকে ই তাদেরকে অনুসরন করে।

লেখক: মো: কামাল উদ্দিন , সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ।