ফুলবাড়ীতে বিসিআইসি সার ডিলারের দূর্নীতি বঞ্চিত কৃষক

জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপজেলা কৃষি অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে সার উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে বিসিআইসির এক সার ডিলারের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার সিরাজ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী সিরাজুল ইসলাম উপজেলা কৃষি অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে চট্টগ্রাম টিএসপি কোম্পানিতে সার উত্তোলন করতে গেলে সেখানকার কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা কুষি অফিসারের স্বাক্ষরটি যাচাই করে জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

বিষয়টি তারা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করলে কুড়িগ্রামের ডিডি ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসারকে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার ওই ডিলারকে কারণ দর্শানোর জন্য শোকজ করেন।

এ ব্যাপারে সিরাজ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী সিরাজুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষর জালের বিষয়টি সত্য। তবে আমি স্বাক্ষরটি জাল করিনি। আমার প্রতিনিধি সার উত্তেলনের সময় কৃষি অফিসারের স্বাক্ষর জাল করেছেন। স্বাক্ষর জাল করে আমার প্রতিনিধি অন্যায় করেছে।

তাই আমি আমার প্রতিনিধির হয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। পুরো বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ জানান, এটি অফিসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। উপজেলা কমিটিতে আলোচনা করে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, এ বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ওই ডিলারের বিরুদ্ধে সব সময় দোকান খোলা না রাখার অভিযোগ করেছেন এলাকার কৃষকরা। কাশিপুরের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, ডিলারের দোকান সব সময় খোলা না থাকায় কৃষকরা প্রয়োজনের সময় সার পায় না।

কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়। ব্যবসায়ীরা যখন সার কিনতে আসে তখন দোকান খুলে তাদের কাছে সার বিক্রি করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ডিলারের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তাই তাকে পাওয়া যায় না। যদি স্থানীয় লোক ডিলার হতো তাহলে সব সময় দোকান খোলা থাকতো তার দেখাও পাওয়া যেত। কৃষকরা উপকৃত হতো। এ সময় একই অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসারকে অবহিত করলে তিনি সব সময় ডিলারের দোকান খোলা রাখতে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে সকলে সচেতন হলে কৃষক উপকৃত হবে মর্মে তিনি সকলের সহযোগিতা চান। ডিলারের দোকানের তত্ত¡াবধায়ক খায়রুল জানান, ডিলার ও ম্যানেজার দু’জনের বাড়ি কুড়িগ্রামে হওয়ায় তারা সপ্তাহে দু’একদিন এখানে আসেন। তারা ঘরের চাবি আমাকে দিয়েছেন। আমার দোকান যতক্ষণ খোলা থাকে ডিলারের দোকানও ততক্ষণ খোলা রাখি। ডিলারের দোকান তত্ত¡াবধানের জন্য তার কোন বৈধ নিয়োগপত্রও নেই বলে জানান খায়রুল।