ভুয়া জন্ম ও নাগরিকত্ব সনদসহ ১১ রোহিঙ্গা উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা, ১১ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারের বাংলাদেশি ভুয়া জন্ম-নাগরিকত্ব সনদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের গুটিলা গ্রাম থেকে রোহিঙ্গা পরিবারের ১১ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।

তহিরপুর থানা ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, মিয়ানমারের একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশি ভুয়া জন্ম ও নাগরিকত্ব সনদ জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- মিয়ানমারের নাগরিক আব্দুস ছবুর (৫১), তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৪২), তাদের ছেলে আব্দুল হালিম (২৩), মেয়ে হালিমা (১৮), ছালেহা (১৫), হারিছা (১৩), ফারিছা (১১), আছলম (৭), ওমামা বেগম (২), পুত্রবধূ ওম্মুল খায়ির (২২), দেড় বছরের নাতনী মোশাররফা। আব্দুস ছবুর মিয়ানমারের আকিদাবাদ জেলার মংডু থানার কুয়ান শিবং গ্রামের সাকির আহমদের ছেলে।

ওসি আরো জানান, উপজেলার বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মিয়ানমারের নাগরিক ১১ সদস্যকে তাহিরপুর উপজেলার ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের জন্ম সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছেন। তাহিরপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের গুটিলা গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ওসি জানান, বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও সচিব ভুপতি ভুষন সরকার স্বাক্ষরিত ৯টি জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র, ৮টি নাগরিকত্ব সনদপত্র ও দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা রশিদ উদ্ধার করেছেন।

তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টায় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও সচিব ভুপতি ভুষন সরকারকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার) তপন কুমার ঘোষ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে রোহিঙ্গা পরিবারের ১১ সদস্যকে কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হবে।