এমবিবিএস পরীক্ষায় ৫ নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত

নিউজ ডেস্ক: ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের পাঁচ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো.জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে ৫ নম্বর কেটে মেধা তালিকা তৈরির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। সোমবার এ নিয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।

সোমবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি জানান, রিটে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মেধাতালিকা থেকে ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২১ আগস্টের পত্রিকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এ বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর কলামে বলা হয়, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় আগের বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। অন্যদের কাটা হবে না। এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্ত সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০ এর চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য কৌশল চ্যাপ্টারের এক নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী দুই বছরের জন্য অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে। সুতরাং সরকার আগের বছর পাস করাদের থেকে ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শিক্ষনীতির পরিপন্থী।