ময়মনসিংহে পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধ ও গনপিটুনীতে দুই ডাকাত নিহত


ময়মনসিংহ ব্যুরো :
ময়মনসিংহে পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধ ও গনপিটুনীতে দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো গরু চোরদলের টিম লিডার বগুড়ার রব্বানীসহ অজ্ঞাতনামা আরেকজন। তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে ত্রিশালের ঝিটকা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বৈলর এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি শুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। বন্ধুকযুদ্ধে নিহত রব্বানী ময়মনসিংহের চরবড়বিলা কোটামারি এলাকায় ১০ গরু ডাকাতিসহ ডাকাতদলের হাতের দুইজন হত্যাকান্ডের মূলহোতা ছিলেন। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সোমবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২১ আগষ্ট চরবড়বিলায় আকাশী এগ্রো ফার্মে একদল ডাকাত ১০টি গরু ডাকাতি করে ট্রাকযোগে পালিয়ে যায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় এবং দেখে ফেলায় ঐ ফার্মের নাইটগার্ডসহ পার্শ্ববর্তী একজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যাশেষে হাত পা বেধে পানিতে ফেলে দেয় ডাকাতদল। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ আইটি বিভাগের সহায়তায় লুণ্ঠিত গরুর ক্রেতা নারায়গঞ্জের শফিকুল ইসলাম ওরফে রেজওয়ান হাজীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত গরু ডাকাতির মূলহোতা রব্বানী ( ট্রাক ড্রাইভার )সহ এগারজনের নাম প্রকাশ করে। এরইসুত্র ধরে রবিবার রাতে বুলু ওরফে সুমন নামে আরেক ডাকাতকে পুলিশ দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। বুলু পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানায় রব্বানীর নেতৃত্বে একটি ডাকাতদল রাতে ত্রিশালে গরু ডাকাতির জন্য সসস্ত্র অবস্থায় ঝিটকা এলাকায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই সুত্র ধরে ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মধ্যরাতে ত্রিশালের দিকে এগিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরো জানান, পুলিশ ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের বৈলর এলাকায় গেলে মহাসড়কে লোকজনের জটলাদেখে জানতে পারে ডাকাতদল ৫টি গরু ডাকাতি করে ট্রাকযোগে পালিয়ে গেছে এবং দলছুট হয়ে পড়া এক ডাকাত গনপিটুনীতে নিহত হয়েছে। এ সময় ডিবি পুলিশ পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদলের পিছু নেয় এবং আগাম বার্তা দিয়ে বিভিন্ন থানাকে অবহিত করে। ডাকাতদল আমীরাবাড়ীর ঝিটকা এলাকা দিয়ে পালানোর চেষ্ঠাকালে পুলিশের উপস্থিত টের পায়। এতে ডাকাতদল পুলিশের উপর গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে রব্বানী নামের এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ ২৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ সময় তিন পুলিশ সামান্য আহত হয়েছে বলেও তিনি জানান। পুলিশ সুপার আরো জানান, আকাশী এগ্রোফার্মে ১০ গরু ডাকাতি ও দুইজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩ জন আদালতে স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দিয়েছে। এ ঘটনায় ১১জন জড়িত থাকার কথা তারা জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো, বুলবুল আহমেদ ওরফে আজিবর, মোঃ জাহিদ, লুন্ঠিত গরুর ক্রেতা শফিকুর ইসলাম ওরফে রেজওয়ান ও বুলু ওরফে সুমন। তিনি আরো জানান, গরু ডাকাতি ও দুইজনকে হত্যার ঘটনায় অন্যদেরকেও প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আরো যাচাই বাছাই এবং তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুর আলম, এস. এ নেওয়াজি, জয়িতা শিল্পি, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আল আমিন, শাহরিয়ার, ডিবির ওসি আশিকুর রহমান, ত্রিশালের ওসি জাকিউর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।