সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যাজট এখনো খুলেনি…

নিউজ ডেস্ক:  গত সপ্তাহে মা ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ। এ সময় তিনি মা ও বোন কবিতাকে বলেছিলেন, কিছু লোককে বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন তিনি। কবিতার দাবি, ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর জন্য বলেছিলেন তারা। ওই লোকগুলোকে আবারও বাড়ির আশপাশে দেখলে পুলিশে জানাবেন বলে বলেছিলেন গৌরি।

এরপর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন পান ইন্দিরাদেবী। জানতে পারেন, পশ্চিম বেঙ্গালুরুর রাজরাজেশ্বরী নগরে নিজের বাড়ির সামনে রক্তে ভাসছেন তার বড় মেয়ে।

ওই ফোনটি কে করেছিল তা জানা যায়নি। ওই ফোন নম্বর কার- সেটা খুঁজছে পুলিশ। ধরা পড়েনি আততায়ীও। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানান, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করলেও কোনো অভিযোগ জানাননি গৌরী। তার প্রাণসংশয়ের কোনো খবরও পুলিশের কাছে ছিল না। ধোঁয়াশা এখানেই। গৌরীর ভাই ইন্দ্রজিতের দাবি, মাওবাদীরা তার বোনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল।

কিন্তু গৌরীর বিরুদ্ধে মাওবাদী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলতেন অনেকেই। এ প্রসঙ্গে ইন্দ্রজিৎ বলেন, কর্নাটক সরকারের সঙ্গে জোট বেঁধে মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরাচ্ছিলেন গৌরী। জঙ্গিদের একাংশ বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি। বোন গৌরীর প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে- গোপন সূত্রে এমনটা জেনেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দ্রজিৎ।

তবে বোন কবিতার দাবি, গৌরীর খুনের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনো যোগ নেই। তার পাল্টা প্রশ্ন, ইন্দ্রজিৎ এটা জানলেন কী করে? তিনি তো গৌরীর সঙ্গে থাকতেন না।

এ প্রসঙ্গে লঙ্কেশ পরিবারের পুরনো অশান্তির কথা তুলছেন কেউ কেউ। গৌরীর বাবা সাংবাদিক পি লঙ্কেশ ছিলেন সাপ্তাহিক কাগজ ‘লঙ্কেশ পত্রিকে’-র মালিক। একটি সূত্রের দাবি, ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পরে গৌরী-ইন্দ্রজিতের মধ্যে পত্রিকার মালিকানা ও মতাদর্শ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অতিবাম রাজনীতির প্রতি গৌরীর ‘সহানুভূতিশীল’ দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতেন না ইন্দ্রজিৎ।

সূত্রটি আরও দাবি করে, ২০০৫ সালে গৌরী ও ইন্দ্রজিৎ পরস্পরের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও করেছিলেন। অফিস থেকে একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানার চুরির অভিযোগ দায়ের করেন ইন্দ্রজিৎ। গৌরী অভিযোগ করেন, ইন্দ্রজিৎ তাকে রিভলভার দিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য নিজে আলাদা পত্রিকা করেন গৌরী। নাম দেন ‘গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকে।’

ইন্দ্রজিতের দাবি, তাঁর ও গৌরীর মধ্যে শুধু মতাদর্শ নিয়েই বিরোধ ছিল, সম্পত্তি নিয়ে নয়। ইন্দ্রজিৎকে ‘বিজেপির সদস্য’ বলছেন অনেকে। তবে ইন্দ্রজিতের দাবি, তিনি কখনওই বিজেপিতে যাবেন না।

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে একটি ভিডিওতে কর্নাটকের বিজেপি বিধায়ক জীবরাজ বলেন, ‘আরএসএসের বিরুদ্ধে গৌরী যে ধরনের লেখা লিখতেন, তা না লিখলে হয়তো বেঁচে যেতেন।’ একটি মার্কিন পত্রিকা লিখেছে, ‘নরেন্দ্র মোদী যদি এই হত্যাকাণ্ড ও হিন্দু সন্ত্রাসের সমালোচকদের হেনস্থার নিন্দা না করেন, তাহলে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’ সূত্র: আনন্দবাজার।