লক্ষীপুরে বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবার ছড়াছড়ি

লক্ষীপুুুুর প্রতিনিধি: সাংকেতিক ভাষায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা একে বলে ‘বাবা’ আবার অনেকে বলে ‘গুটি’। যাই হোকনা কেন ল²ীপুরের বিভিন্ন জায়গায় মুখ ইয়াবার ছড়াছড়ি। ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। প্রকাশ্যে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। এতে বিপদগামী হচ্ছে স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্রসহ যুব সমাজ। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়ছে অভিভাবকরা। এই মরণ নেশা থেকে পরিত্রাণ পেতে অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা প্রচুর ইয়াবা মজুদ করছে বলে জানা যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধ বিচরনে অতিষ্ট জেলাবাসী। হতাশায় অভিভাবক স্কুল-কলেজ পড়–য়া সন্তানদের নিয়ে তাদের আশংকা ঈদকে সামনে রেখে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ত্রকাদিক ব্যক্তি বলেন, ক্ষমতাশীল দলের লোকেরাই ইয়াবার মূল সিন্ডিকেট। চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ইয়াবার ব্যবসা রমরমা। ত্রখান থেকে ইয়াবা বিক্রি হয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সেল হয়। আমরা ত্রদের বিরুদ্ধে টুশব্দ করার মত সাহস পাই না। দেখা যায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসায়ীর সাথে চলাপেরা করে সবসময়। চন্দ্রগঞ্জ থানায় ত্রকাদিক স্পটে মাদকের বেছাকেনা হচ্ছে হরদমে।

যানা যায় জেলার জেবি রোড, হাসপাতাল রোড, শিল্পী কলোনী, কলেজ আঙ্গিনা, তেরবেকি, মোবারক কলনী, শাখারি পাড়া, বাগবাড়ী, পৌর শিশু পার্ক, ঝুমুর সিনেমা হল, দক্ষিণ তেমুহনী, কালুআজি রোড, বিসিক মাঠ, নতুন বাস স্ট্যান, জকসিন, মান্দারী, দড়পাড়া, চন্দ্রগঞ্জ, চৌধুরী বাজার, পালের হাট, ভবানীগঞ্জ, ভবের হাট, আবিরনগরের ত্রনায়েতপুর, মিয়া রাস্তার মাথা, নুড়ীগাছ তলাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গার মুখ। ত্রইসব জায়গায় রয়েছে ইয়াবার সিন্ডিকেট। পুলিশের চোখ পাকি দিয়ে মাদকের রমারম ব্যবসা করে আসছে সিন্ডিকেটরা।

দেখা যায় অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী রাতের আধাঁরে মাছ শিকারে নেমে ইয়াবা কেনাবেচা করছে। অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে মালসহ ধরেও কিছুই হচ্ছেনা। তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করলে জামিনে চলে ত্রসে পূনরায় ব্যবসা শুরু করে। ত্রসব মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবসা শুরু করে রাতারাতি গাড়ি বাড়ীর মালিক হয়ে দুই-তিনটা বিয়ে করছে। তাই ইয়াবা উদ্ধারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন জাগছে সচেতন সমাজ মানুষের মনে।

১৫ নম্বর লাহারকান্দি ইউনিয়নের আবিরনগর এনায়েতপুরের ইয়াবা ব্যবসায়ী সোলেমান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে পুলিশের চোখ পাকি দিয়ে। হঠাৎ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল ইয়াবার টাকার জন্য বাবু নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে রেখেছে সোলেমান। তাকে জিজ্ঞাস করলে সে বলে বাবুকে জিজ্ঞাস করেন তাকে কেন বেঁধে রাখলাম। বাবু বলে সে আমাকে দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করায়। এখন টাকা দিতে দেরি হলে আমাকে ডেকে এনে বেঁধে রাখলো। কয়েকদিন পর ডিবি পুলিশ থাকে ধরতে গেলে তাদের চোখ পাকি দিয়ে সে পালিয়ে যায়।

লক্ষীপুর জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, আমরা গত জুলাই মাসে ২৯৫৪ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করি যার আনুমানিক মূল্য ৯ লক্ষ টাকা। আমাদের জানামত যতজায়গায় মাদক কেনা-বেচা হয় সেই স্থান গুলো ধ্বংস করাসহ ব্যবসায়ীদের ধরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় সুত্রে জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৫০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

লক্ষীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের এডি চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, জেলাতে আমাদের তিনজন লোক কর্মরত আছেন। তারা প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান করে থাকেন। তবে লোকবল সংকটের কারনে সঠিকভাবে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।