পুনরায় বেড়েছে চালের দাম

নিউজ ডেস্ক: *সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে*আমদানি ও শুল্ক ছাড়ের প্রভাব পড়ছে না বাজারে *ট্রাকমালিকেরা কোরবানির গরু নিয়ে ব্যস্ত। তাই বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে চাল ঢাকায় আনতে ট্রাকভাড়া অনেক বেড়েছে *পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চালের ট্রাক নিয়ে ৬–৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়

শুল্ক কমানো ও সরকারি-বেসরকারি খাতে আমদানি বৃদ্ধির প্রভাব দেশের চালের বাজারে পড়ছে না। নতুন করে আরেক দফা বেড়েছে চালের দাম। পাইকারি বাজারে চাল কিনতে গেলে এখন কেজিতে দুই টাকা বেশি দিতে হবে। চলতি মাসে এ নিয়ে দুই দফা চালের দাম বাড়ল।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও বাবুবাজার-বাদামতলীর আড়তে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভালো মানের মিনিকেট চালের দাম উঠেছে কেজিপ্রতি সাড়ে ৫৫ টাকায়, প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। খুচরা বাজারে নতুন দামের প্রভাব এখনো পড়েনি। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন দামের মিনিকেট চাল খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।

মিনিকেট চাল বোরো মৌসুমের শুরুতে সাধারণত ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা থাকে। মৌসুম শেষে তা ৫০ টাকার কাছাকাছি ওঠে। গত বোরো মৌসুমে হাওরে ফসলহানি ও উৎপাদন কম হওয়ায় এ বছর চালের দাম অনেক বেড়েছে।

মিনিকেটের সঙ্গে পাইকারি বাজারে মাঝারি ও মোটা চালের দামও বেড়েছে। মাঝারি মানের বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায়। এ ছাড়া দেশি মোটা স্বর্ণা চাল ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা ও ভারতীয় স্বর্ণা চাল ৪১ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। খুচরা বাজারে পাইকারির চেয়ে দাম সাধারণত কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি হয়।

বোরো দেশের চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুম। বছরে সাড়ে ৩ কোটির মধ্যে বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত বোরোতে চালের উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। বাজার সামাল দিতে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এরপরও বাজারে তেমন প্রভাব না পড়ায় ১৭ আগস্ট আমদানি শুল্ক আবার কমিয়ে ২ শতাংশ করে সরকার।

চালের বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আমদানি হচ্ছে মূলত আতপ ও ভারতীয় মোটা চাল। সরু ও মাঝারি চাল আমদানি হচ্ছে খুবই সামান্য। ফলে মূল বাজারে প্রভাব পড়ছে না। ফলে দেশি মিলমালিকেরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ধানের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁদেরও খরচ বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা পবিত্র ঈদুল আজহার পর চালের দাম আরও বাড়তে পারে। কারওয়ান বাজারের ইসমাইল রাইস এজেন্সির জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকে (বুধবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোকামে মিনিকেট চালের দাম চেয়েছে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২ হাজার ৮০০ টাকা, যা ঢাকায় এনে ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি করতে হবে। এক সপ্তাহ আগেও সেখানে প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ছিল ২ হাজার ৬৫০ টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমার এক ট্রাক চালের সরবরাহ আদেশ ছিল, কিন্তু মিলমালিক তা দেয়নি।’

বাবুবাজারের শিল্পী রাইস এজেন্সির মালিক কাওসার রহমান বলেন, মিলমালিকেরা এখন সরবরাহ আদেশ নিতে রাজি হচ্ছেন না। তাঁরা বলছেন ঈদের পরে বাজার পরিস্থিতি দেখে সরবরাহ আদেশ নেবেন।

ঈদের কারণে আমদানি করা চালের দামও বাড়ছে। ভারতকেন্দ্রিক আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, বেনাপোল বন্দর থেকে চাল ঢাকায় আনতে ট্রাকভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। ট্রাকমালিকেরা কোরবানির গরু নিয়ে ব্যস্ত। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চালের ট্রাক ৬ থেকে ৭ দিন অপেক্ষার পর নদী পার হতে পারছে।

বেনাপোল বন্দরে গতকাল ভারতীয় মোটা চালের দাম ছিল ৩৯ টাকা। যা গত সপ্তাহে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে বন্দর সূত্রে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের চাল আমদানিকারক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের বাজার ঠিক আছে। সেখানে দাম বাড়েনি। ঈদের পরে চাল আমদানি বাড়বে।