চট্টগ্রামে প্রতারক চক্রের প্রধান গ্রেপ্তার

রনজিত কুমার শীল, চট্টগ্রাম: ভূয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় কত শত শত লোক বছরের পর বছর ধরে কারাযন্ত্রনা ভোগ করছে তার হিসেবে যেন নেই ঠিক তেমনি ভূয়া জামিননামায় কত কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিভিন্ন কারাগার থেকে বের হয়ে গেছে তার সংখ্যা মূলতঃ অজানা । কিন্তু এই পর্যন্ত ভূয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাজারী ও ভূয়া জামিন নামা সৃজনকারী সংঘবদ্ধ চক্রের কোন সদস্যের টিকিটি ধরতে পারেনি। তবে সি এমপি’র পতেঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অসামী এস এম জসিম উদ্দিন কে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করার পর গত ৫ জুলাই চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয় ।

গ্রেফতারকৃত জসীমউদ্দিনকে ফরিদপুরের একটি আদালতের ভূয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীমূলে আসামী হিসাবে শোন এ্যরেষ্ট দেখানো হয় গত ১০ জুলাই। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বছর পর এই প্রথম ভয়ঙ্কর প্রতারনা “ভূয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা ও ভূয়া জামিননামা সৃজন কারী সংঘবদ্ধ দলের এক কুখ্যাত সদস্যকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করলো। ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের স্বাক্ষর ও সীল জাল করে চট্টগ্রামের এক ব্যাবসায়ীর নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় আদালতের নির্দেশে তার বিরূদ্ধে ২০১৬ সালের মার্চে একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল।

গ্রেফতারকৃত জসিমউদ্দিন কুমিল্ল¬ার দাউদকান্দি থানাধীন গড়ি গোয়াল গ্রামের মৃত নেকবর আলীর পুত্র। সে বর্তমানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া মোড়স্থ উত্তর পতেঙ্গায় বসবাস করে। এই প্রতারনা ও জালিয়াত চক্রে গ্রেফতারকৃতসহ স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী, পরিবারের সদস্য সহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের মত সদস্য সক্রিয় রয়েছে।

জানা গেছে, এস এম জসীমউদ্দিন চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ ৩ জন অংশীদারী মালিকের ওয়েলটেক বাংলাদেশ নামে একটি কারখানায় চাকরী নেয় এবং অল্পদিনের মধ্যে বিশ্বাস জমিয়ে কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব পায়।

এই সুবাধে সে কারখানার উৎপাদিত পন্য অন্য প্রতিষ্টানের ভাউচার ব্যবহার করে ১৪ লাখের বেশী টাকা আত্বসাৎ করে। হিসাব চাইতে গেলে জসিমউদ্দিন জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃষ্টি করে ১ কোটি টাকা মূলধনের মালিকানা দাবী করে। মালিক সাহাবউদ্দীন, কাজল বৈদ্য ও বিষ্ণুপদ পালিতের বিরূদ্ধে একের পর এক সিরিজ মামলা দায়ের করতে থাকে। এছাড়া চক্রটির মহিলা সদস্যদের দিয়ে প্রতিষ্ঠনটির মালিকদের বিরূদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক সহ ভূয়া কাবিন নামা ও অপহরন মামলার মাধ্যমে হেনেস্তা করতে থাকে। প্রতিটি মামলা মিথ্যা হওয়ায় তার বিরূদ্ধে ২১১ ধারায় ৪ টি মামলা দায়ের করার জন্য আদালত নির্দেশ দেয়।

এরপর জসিমউদ্দিন ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে সাহাবউদ্দিনের বিরূদ্ধে মানব পাচার মামলা নং ৭১/১৩ ইং ভূয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা সৃজন করে চট্টগ্রামে পাঠায়। এ ব্যপারে সাহ্বাউদ্দিন ফরিদপুরের আদালতে অভিযোগ করলে আদলতে এই ধরণের কোন মামলা নেই বলে জানায়। এরপর উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক পুলিশি তদন্তে প্রতারক জসিমউদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। আদালতের নির্দেশে সে জেলার কোতোয়ালী থানায় ৪৬৬ ধারা মামলা নং ২ (৭৮)তাং ১মার্চ ২০১৬ ইং রুজু হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (বিউটি) প্রকাশ শাহানা আক্তার (বিউটি) স্কুল শিক্ষিকা। তার বিরূদ্ধে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের ৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িদের রুজুু করা জসিমের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০ টির অধিক বিচারাধীন মামলা। এরপর ও তার বিরূদ্ধে বিভিন্ন প্রতারনা ও অভিযোগের ঘটনা আসতে শুরু করে। গত ৮ আগষ্ট আদালতে হাজির করার জন্য জসিম উদ্দিনকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।