নাটোরে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত আছে দুই লক্ষাধিক পশু

মোঃ মনজুর-ই-মওলা, নাটোর প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযহায় নাটোরের সামর্থ্যবান মুসলমানদের কোরবানী করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দুই লক্ষাধিক পশু। গৃহস্থদের বাড়ি বাড়ি পশু পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন খামারেও কুরবানির পশু পালন করা হয়। নাটোর জেলা পশুসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা যায় এ বছর নাটোরে মোট সাত লক্ষাধিক পশু রয়েছে তারমধ্যে কোরবানী যোগ্য পশু আছে দুই লক্ষ সাইত্রিশ হাজার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮.৫% বেশি। ২০১৭ সালে নাটোরে কোরবানী পশুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লক্ষ টি যেখানে ২০১৬ সালে ছিল এক লক্ষ সত্তর হাজার। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় কোরবানী পশুর উৎপাদন বেড়েছে ৩৯.৪১% ।

কোরবানী যোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড় আছে পয়ষট্টি হাজার, বলদ আছে চার হাজার সাতশত, গাভী চৌদ্দ হাজার দুইশত একুশ, মহিষ দুইশত পঁচাত্তর হাজার, ছাগল এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার, ভেড়া সতের হাজার সাতশত আটাত্তরটি। জেলা পশুসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে নাটোরে পশু খামারের সংখ্যা ১২১৬৫ টি। তারমধ্যে গরুর খামার ১২০০০ টি, ছাগলের খামার ৫৯ টি এবং ভেড়ার খামার ১০৬ টি।

তবে ঈদের আগে আকস্মিক বন্যায় নলডাঙ্গা এবং সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে অত্র এলাকার কোরবানী পশুর খামারীরা। এই পরিস্থিতিতে নাটোর জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় পশু চিকিৎসা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। জনবল সঙ্কট থাকা সত্তে¡ও প্রতিটি ইউনিয়নে ৩ জনের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে ১৫ লক্ষ ভ্যাক্সিন জরুরী ভিত্তিতে মজুদ করা হয়েছে।

গবাদি পশু খামারের মালিক মোঃ রেকাত আলীর খামার পরিদর্শনের সময় তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনি উন্নত জাতের গরু যেমন সিন্ধি, নেপালি, ফিজিয়ান সংগ্রহ করেন। কোরবানীতে এসব গরু মোটাতাজাকরনে পশুর খাবার এবং ওষুধ পত্রে অনেক ব্যায় হয়। জেলা প্রাণী সম্পদ কার্য্যালয়ে চিকিৎসক সঙ্কট এবং ওষুধের অপ্রতুলতার কারণে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের উপর নিভৃর করতে হয় এবং বেশী দাম দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। সরকারী সাহায্য সহযোগীতা পেলে এই সমস্যা থেকে উত্তোরণ হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এ বছর নাটোরের কোন পশুতে স্টরেয়ড প্রয়োগ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

নাটোরে কোরবানী পশুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান জেলায় গৃহস্থ এবং খামারী মিলে দুই লক্ষাধিক পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত আছে। সারা বছরই এসব পশুদের ভালো চিকিৎসা সেবা এবং পরামর্শ এই কর্যালয় দিয়ে থাকে। পশু চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা স্বল্পতার কারণে খন্ডকালীন প্রশিক্ষণের সময় পশুদের চিকিৎসা দিতে বিপাকে পড়তে হয় তখন স্থানীয় হাতুরে পশুুচিৎিসকদের শরণাপন্ন হতে হয়। সরকারী বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ার কারণে ওষুধপত্র চাহিদামত না থাকায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী পশু-ওষুধ ব্যবসায়ী তাদের ইচ্ছাধীন ওষুধ দিয়ে পশুর চিকিৎসা করাতে বাধ্য করে। তবে অত্র কার্যালয়ের সহযোগীতার কারণে নাটোরে খামারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।