পাসপোর্ট: পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ঘুষবাণিজ্য বন্ধ করুন

নিউজ ডেস্ক: পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানির চর্চা একটা পুরোনো ব্যাধির মতো। এই ব্যাধির জীবাণু পাসপোর্ট তৈরি ও প্রদানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

দুর্নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা (টিআইবি) গত সোমবার ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শিরোনামে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেটির সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য তথ্য হলো, পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে পুলিশি তদন্তের (ভেরিফিকেশন) জন্য পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যদের ঘুষ দিতে হয়।

পুলিশি তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হন ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী নাগরিকের আবেদনপত্রে অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা, জঙ্গি তৎপরতা, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দেখানোর হুমকি ইত্যাদি অজুহাতে ঘুষ আদায় করা হয়। ঘুষ নেওয়ার জন্য আবেদনকারীর বাসস্থানে না গিয়ে তাঁকে থানায় কিংবা চায়ের দোকানে ডেকে পাঠানো হয়; ক্ষেত্রবিশেষে ‘বিকাশ’ মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমেও ঘুষের টাকা পাঠাতে বলা হয়।

টিআইবির গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-হয়রানি-দুর্নীতিতে এসবি পুলিশের স্থান এক নম্বরে। তার পরে আছে পাসপোর্ট অফিস। সেখানে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ সেবাগ্রহীতা অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হন। পাসপোর্ট পেতে দেরি হয় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪ থেকে ৪৫ দিন। পাসপোর্ট অফিসের দালালদের দৌরাত্ম্য প্রায় সর্বব্যাপী।

এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের মহাপরিদর্শক টিআইবির গবেষণা জরিপে প্রাপ্ত তথ্য-পরিসংখ্যানকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ বলেছেন। কিন্তু এভাবে সমস্যাটি লঘু করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় পুলিশি তদন্তের নামে এসবি পুলিশের ঘুষবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, নইলে পুলিশি তদন্তের বিধান তুলে দেওয়াই শ্রেয়। সম্প্রতি ভারতে এই বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে। আর পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে অংশ অনিয়ম-দুর্নীতি-হয়রানির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সব পাসপোর্ট অফিসকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করতে হবে।