গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বাড়লেও জনগণের অসুবিধা হবে না

নিউজ ডেস্ক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় করেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সব খাতের সঙ্গেই জড়িত। এখন মানুষের আয় এক হাজার ৬০০ ডলার হলেও উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই তা হয়ত ছয় হাজার ডলারে উন্নীত হবে। তখন আরও বেশি মূল্য দিয়ে গ্যাস বা বিদ্যুৎ কিনতে জনগণের অসুবিধা হবে না।

শনিবার ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স, বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘এনার্জি ট্যারিফ অ্যান্ড ন্যাশনাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নসরুল হামিদ বলেন, পল্লী অঞ্চলে ৫০-এর অধিক মানুষ লাইফ লাইনে বসবাস করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে এবং জনগণের আয়ের দিক লক্ষ্য রেখে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে পরিকল্পনাও পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার যে ভিশন সরকার দিয়েছে তা নির্ধারিত সময়েই বাস্তবায়িত হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ম তামিম। কিভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয় বা করা উচিত, এ খাতে ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয়তা, প্রাইস গ্যাপ, তেল ও গ্যাসের মূল্যের পূর্বাভাস, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তেল ও গ্যাসের মূল্য, সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও নীতিসমূহ ইত্যাদি বিষয় প্রবন্ধে উপস্থাপন করা হয়।

অধ্যাপক ম তামিম বলেন, আগামী ১০ বছরে গ্যাসের মূল্য তিনগুণ বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন। সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তির চেয়ে আল্ট্রাসুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিটে ৬০-৭০ পয়সা বেশি খরচ হয় এবং সাবক্রিটিকাল থেকে আল্ট্রাসুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তিতে ২০-৩০ পয়সা বেশি বিনিয়োগ করতে হয়। তিনি মানুষের, যন্ত্রের ও প্রযুক্তির দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম, ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্লান্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম ও ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স, বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক সদরুল হাসান বক্তব্য দেন।