অন্যায় কিছু চাপিয়ে দিতে চাইলে জনগণ রুখে দেবে: হানিফ

নিউজ ডেস্ক: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এই জাতিকে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেয়ার ক্ষমতা কারও নাই, এটা বারবার প্রমাণ হয়েছে। কেউ যদি অন্যায় কিছু চাপিয়ে দিতে চায়, সেটা জনগণ রুখে দেবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করলেন আমাদের উচ্চ আদালত। কি অজুহাত? ষোড়শ সংশোধনীতে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল।

সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল, যা ১৯৭৭ সালে খুনি জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে গঠন করেছিলেন, সেটাকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আমি অবাক হয়ে যাই। বিচার ব্যবস্থা ও বিচারকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। শ্রদ্ধা রাখতে চাই। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডই তাদের নিজেদের বিতর্কিত করে দিচ্ছে বলে জাতি মনে করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের হাতে যখন বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা ছিল তখন সংসদের মাধ্যম কোনো বিচারককে অপসারণ করা হয় নাই। সংসদ সেটা করে নাই। কিন্তু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে যখন ক্ষমতা বহাল ছিল, জিয়াউর রহমানের সময় একজন নয়, দুজন নয়, চারজন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছিল। কই তখন তো কিছু বলেন নাই।

রায়ে স্বাধীনতার ইতিহাস টেনে আনা হয়েছে জানিয়ে হানিফ বলেন, আপনাদের মনে রাখা উচিত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সত্তরের নির্বাচনে ম্যান্ডেট নিয়ে, তার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আপনারা বিচারপতি, প্রধান বিচারপতি হতে পেরেছেন। বাংলাদেশ যদি স্বাধীন না হতো তাহলে এই পর্যায়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

আপনারা বলছেন জাতীয় সংসদ নাকি অপরিপক্ক। আপনারা এটা কি উদ্দেশ্যে বলেছেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য। সেই সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি। সংসদ যদি অপরিপক্ক হয় তাহলে কি মহামান্য রাষ্ট্রপতিও অপরিপক্ক? তা যদি হয় তাহলে আপনাদের অবস্থান কোথায় থাকে? কাজেই দয়া করে কথাবার্তা ভেবেচিন্তে বলুন।

তিনি বলেন, আপনারা বলেছেন, ‘ফাদার্স অব দ্য নেশন’। এটা দ্বারা আপনারা কি বোঝাতে চেয়েছেন? জাতির পিতা কয়জন হয়? আমরা বলতে চাই, এই জাতির পিতা একজনই। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আপনারা ‘ফাদার্স’বলতে কি বুঝিয়েছেন তা জাতি জানতে চায়। আপনারা যদি স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আর কারও তুলনা করতে চান, সেটার সুযোগ নেই। বাংলার মানুষ এই ধৃষ্টতা সহ্য করবে না। অতএব দয়া করে যে চেয়ারে আছেন তার মর্যাদা ধরে রাখুন। আমরা ওই চেয়ারের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখতে চাই। অযথা কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত দাবি করে হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের বিচার হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে যারা মূল চক্রান্তকারী তাদের বিচার এখনো হয় নাই। এর পেছনে মূল চক্রান্ত করেছিল পাকিস্তানের এজেন্ট জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে তিনি তা প্রমাণ করেছিলেন। তিনি যদি জড়িতই না হবেন তাহলে কেন খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন? কেন পুরুস্কৃত করেছিলেন? এ সময় জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছিল তা এখনো অব্যাহত আছে। একবার-দুবার নয় ১৯ বার বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২১ আগষ্ট তার উপর গ্রেনেড হামলা করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। কিন্তু বাংলার ১৬ কোটি মানুষের দোয়ায় তিনি (শেখ হাসিনা) প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন ও উপ-প্রচার সম্পাদক মামুনুর রশীদ শুভ্র।