লাদাখে চীন ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ

নিউজ ডেস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মিরের লাদাখে সীমান্ত এলাকায় চীন-ভারত সেনাবাহিনী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ভারতীয সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার পশ্চিম হিমালয়ের লাদাখের প্যাঙ্গং হ্রদের কাছে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তের ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার পর চীনের ১৫ সেনাসদস্য সেখান থেকে চলে যেতে না চাওয়ায় ওই সংঘর্ষ হয়েছে।

দোকলামের বিতর্কিত এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর সড়ক নির্মাণ কাজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাঁধা দেয়ার পর থেকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গত প্রায় দুই মাস ধরে চরম উত্তেজনা চলছে। এর মাঝেই মঙ্গলবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই দেশের সেনাবাহিনী।

সীমান্তের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় একটি সূত্র বলছে, লাদাখের পাঙ্গন হ্রদের কাছে ভারতের ভূখণ্ডে চীনা সেনাবাহিনীর অনপ্রবেশ নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। চীনের বেশ কয়েকজন সেনা রড ও পাথর নিয়ে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করে।

পরে চীনা সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে ভারতীয় সেনা। এ সময় দুই দেশের সেনারা একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ অবস্থা চলে; তবে এসময় কোনো অস্ত্রের ব্যবহার হয়নি। পরে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে ব্যানার তুলে ধরলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। দুই দেশের একে অপরের বিরুদ্ধে নিজেদের ভুখণ্ডে অনপ্রবেশের অভিযোগ আনছে দর্ঘিদিন ধরে। তবে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা একেবারে বিরল।

এবিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্যাঙ্গন হ্রদের কাছে ঝামেলা হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের পর বিবাদ দেখা দিয়েছে।

পর্বত এলাকার অচিহ্নিত সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারে সীমান্ত নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে দোকলামে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে আছে। চীন একতরফাভাবে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে আসছে ভারতকে। চীনের গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভারতকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।