মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:  ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ভালো। ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে ব্যবহৃত ইন্টারনেটকেই ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বলা হয়। এখানে ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৭৮ নম্বরে।

ইন্টারনেট গতি মাপার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওকলার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একটি দেশে মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কেমন, সেটি নির্ধারণেনিউজ ডেস্ক: মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। অর্থাৎ মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। মোবাইল ফোনের চেয়ে বাংলাদেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ‘স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিবেদনের সর্বশেষ সংস্করণে বাংলাদেশে ইন্টারনেট গতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড গতি ৫ দশমিক ১৭ এমবিপিএস (মেগা বিটস প্রতি সেকেন্ড)। আর আপলোডের গড় গতি ১ দশমিক ৯২ এমবিপিএস।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে কোস্টারিকা ও ইরাক। এই দুটি দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭৯ এমবিপিএস ও ৩ এমবিপিএস।

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। তালিকার ৯৮ নম্বরে থাকা দেশটিতে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ১০ দশমিক ৭৬ এমবিপিএস। ১০২ নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার ডাউনলোড গতি ৯ দশমিক ৮২ এমবিপিএস। নেপাল ও ভারত এ তালিকায় আছে যথাক্রমে ১১১ ও ১১২ নম্বরে। দেশ দুটিতে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ৮ এমবিপিএসের বেশি।

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। দেশটিতে ডাউনলোডের গড় গতি ৫২ এমবিপিএস। শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, হাঙ্গেরি, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম ও আইসল্যান্ড। শীর্ষ দশে থাকা প্রায় সব দেশেই মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ৪০ এমবিপিএসের বেশি। বাংলাদেশের চেয়ে এসব দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি।

মোবাইল ইন্টারনেটের চেয়ে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ আছে ৭৮ নম্বরে। এ ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড গতি বাংলাদেশে প্রায় ১৬ এমবিপিএস। আর আপলোডের গড় গতি ১৭ দশমিক ১৮ এমবিপিএস।

ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা আছে ৬৬ নম্বরে, ভারত আছে ৭৪ নম্বরে। দুটি দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি যথাক্রমে ১৯ ও ১৬ এমবিপিএস।

ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে বেশি সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে এই ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড গতি ১৫৪ এমবিপিএস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকং। দেশ দুটিতে ডাউনলোড গতি যথাক্রমে ১২৫ ও ১১৭ এমবিপিএস।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশরুর বলেন, ওকলার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতির প্রকৃত চিত্রটি উঠে এসেছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ভালো হলেও সেটি এখনো বড় শহরকেন্দ্রিক। আর মোবাইলভিত্তিক থ্রিজি ইন্টারনেটের বিস্তার হলেও সেটির গতি ভালো নয়। ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো তৈরিতে জোর না দিলে বাংলাদেশে উচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত হবে না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ৩৩ লাখ। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৮৬ লাখ, আর ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৬ লাখ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ২ কোটি ২৫ লাখ।