গুয়ামে হামলা হলে যুদ্ধ অবধারিত: পেন্টাগন

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। যদিও, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ দেখেই হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন কিম জং উন। এর মধ্যেই গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে, যুদ্ধ অবধারিত বলে পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিয়েছে পেন্টাগন। যে কোনো হামলা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে পিয়ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়াম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দেয় পিয়ংইয়ং। অন্যদিকে, হামলা চালানো হলে উত্তর কোরিয়াকেও সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন।

গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এমন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের চলমান উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক তখনই হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশটির নেতা কিম জং উনকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ। একইসঙ্গে, হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও গণমাধ্যমের ওই খবরে জানানো হয়। মঙ্গলবার, সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে কিম জং উনকে হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করার কিছু ছবি প্রকাশ করে পিয়ংইয়ং। এতে, দেখা যায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুয়াম দ্বীপের মানচিত্র দেখিয়ে নেতা কিম জং উনকে হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করছেন আর মনোযোগ দিয়ে তা শুনছেন উন।

গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে, পিয়ংইয়ংকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে পেন্টাগন। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। এছাড়াও, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ ও চাপ প্রয়োগে চীনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ এ কর্মকর্তা।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার বিচারে আমি বলতে চাই, কোরীয় উপদ্বীপের পাশাপাশি এর স্থানীয় বাসিন্দা ও সেখানে বসবাসরত মার্কিনদের রক্ষা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এমনকি, গুয়াম, হাওয়াইসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অংশ হামলার হাত থেকে রক্ষার সক্ষমতাও আমাদের রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ উত্তর কোরিয়ার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করা।’

তবে, দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন বলেছেন, সিউলের সম্মতি ছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে দেয়া হবেনা। একইসঙ্গে, এ অঞ্চলে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে তার সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার একমাত্র দক্ষিণ কোরিয়ার। আমাদের অনুমতি ছাড়া কেউই সেখানে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। তবে, আমি উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আপনারা যে পথ বেছে নিয়েছেন, যদি সেখান থেকে সরে না আসেন তবে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়তে হবে আপনাদেরকে।’

এ অবস্থার মধ্যেই, গুয়াম দ্বীপে সামরিক মহড়া চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। দ্বীপটিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার এই মহড়া পরিচালনা দেশটির বিমান বাহিনী। এছাড়াও, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গুয়ামে শান্তি সমাবেশ করেছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।