খাদ্য সংকটে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ

নিউজ ডেস্ক: খাদ্য সংকটে পড়েছেন কুড়িগ্রামের বানভাসি মানুষ। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে অধিকাংশের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি সরকারি ত্রাণ সহায়তা। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। জেলা প্রশাসকের দাবি, বাড়িতে থাকা বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ চলছে।

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এবার কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়নের ৮শ ২০টি গ্রাম এবং দুই পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে পানিবন্দি হয়ে আছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এবং রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়ন।

কালোয়া ও বাংটুরঘাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে হু-হু করে পানি ঢুকে এই দুই ইউনিয়নের ৮৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মানুষ। তবে বাড়িঘর ছেড়ে এই দুই ইউনিয়নের ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার পরিবার।

সরকারি বরাদ্দের চাল দিয়ে এদের খিচুড়ি খাওয়ানো হচ্ছে। কোথাও এক বেলা-কোথাও দু’বেলা। চিড়া-মুড়ি-গুড়ও দেয়া হচ্ছে। আর যারা বাড়িতে কোন রকমে রয়ে গেছেন তাদের ভাগ্যে এখনও কোন ত্রাণ জোটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি বরাদ্দের ৮ মেট্রিক টন চাল দিয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের খিচুড়ি খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, আশ্রিতদের খিচুড়ি খাওয়ানোর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ চলছে ।

বাড়িঘর ছেড়ে ২শ ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের ১ লাখের মতো মানুষ। জেলায় এ পর্যন্ত ৬শ ৫১ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।