পান্থপথে হোটেলে অভিযানে এক জঙ্গি নিহত

নিউজ ডেস্ক:  রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আবাসিক হোটেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের অভিযানের মধ্যে সন্দেহভাজন এক জঙ্গি নিহত হয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানোয়ার হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভবনের চারতলায় ওই হোটেলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল প্রবেশ করে। তারা সেখানে একটি ল্যাগেজ দেখতে পেয়েছে। সেটি পরীক্ষা করা হবে।

আজ মঙ্গলবার পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের কাছে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়ার পর থেকেই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কলাবাগান থানার এস আই সারোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার ভোরে স্কয়ার হাসপাতালের কাছে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামের ওই হোটেলটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল পৌনে ১০টার দিকে চারতলা ওই ভবনের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের পরপরই শুরু হয় গুলি। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

চতুর্থ তলার ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একজনের দেহও পড়ে থাকতে দেখা যায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে।

পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, হোটেলের যে কক্ষে বিক্ষোরণ ঘটেছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবক সোমবার রাতে সেটি ভাড়া নেয়।

তিনি বলেন, হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্য অনুযাযী ওই যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম, বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। বি এল কলেজ থেকে সে অনার্স পাস করেছে। আমরা ধারণা করছি, ওই যুবকই নিহত হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক আসেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের বিশেষ টিম সোয়টের একটি দলকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটের দিকে হোটেলটি থেকে একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এছাড়া গ্রেনেড এবং তিন থেকে চারটি গুলির শব্দও শোনা গেছে। বিস্ফোরণে ভবনটির এক পাশের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ সময় একজন আহত হয়েছে। তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি জঙ্গি কি না তা জানা যায়নি। এ সময় ভবনের আশপাশে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জঙ্গি অবস্থান করছে সন্দেহে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের পাশে অবস্থিত হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলটিতে নাশকতার সরঞ্জাম থাকতে পারে।

সকালে হোটেলটি ঘিরে ফেলার পরপরই রাসেল স্কয়ার থেকে পান্থপথ-গ্রিন রোড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের প্রতিটি গলিতে অবস্থান নেন পুলিশ ও সোয়াট সদস্যরা।