নতুন লিঁয়াজো কমিটি গঠন ষড়যন্ত্র নয়, রাজনীতির মেরুকরণ: ওবায়দুল কাদের

নিউজ ডেস্ক :বিকল্প ধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় চার দলের বৈঠক এবং নতুন লিঁয়াজো কমিটি গঠনকে ষড়যন্ত্র নয় বরং একে রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। এতে নির্বাচনকে করে গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে মাদক বিরোধী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বুধবার রাতে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডাক্তার একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় এক বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সমন্বয়ক করে গঠিত হয়েছে চারটি রাজনৈতিক দলের নতুন লিঁয়াজো কমিটি। এই কমিটিতে যুক্ত আছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি আর গণফোরাম।

সেমিনার শেষে বের হয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, এ জোট শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা দেখা যাবে।

নির্বাচনের সময় যে জোট হয়, সেখানে আদর্শের চাইতে কৌশলগত দিক বেশি প্রাধান্য পায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে বেপরোয়া মাদক, বেপরোয়া ড্রাইভার, বেপরোয়া রাজনীতিবিদ রয়েছে। একটার পর একটা হুজুগ দেখা দেয়। চিকুনগুনিয়ার পর বেপরোয়া ধর্ষণ শুরু হয়েছে। বেপরোয়া মাদক, রাজনীতিবিদ রয়েছে; এরা কখন জানি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে।

দেশের রাজনীতিতেও এখন বেপরোয়া ড্রাইভার আছে উল্লেখ করে রাজনীতিতে যোগ্য ও সৎ লোকদের আগামী নির্বাচনে সমর্থন দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আদর্শগত বিষয়টা মূখ্য নয়। নির্বাচন হলো কৌশলগত ব্যাপার। এখানে আদর্শগতভাবে জোট না হয়ে কৌশলগত, সময়ের প্রয়োজনে নির্বাচনে জেতার জন্য জোট হয়। কাদের বলেন, তারা তো সেখানে ষড়যন্ত্র করছে না। তারা জোট করছে। অসুবিধা কি? তবে এ জোট শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা দেখতে হবে, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে তো আ স ম আবদুর রবের বাসায় আয়োজিত এক বৈঠকে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে ছিল না। অতি উৎসাহী কেউ করেছে কিনা আমি জানি না। এ ধরনের নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে বাধা আমাদের সরকারি কিংবা দলীয়ভাবে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন সময় হলেই তারা মহাজোট থেকে বের হয়ে যাবেন এটা কিভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনতো মহাজোট নেই, তাহলে ভাঙবে কি করে? এখন আছে ঐকমত্যের সরকার। এ সরকারে তাদের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এরশাদ সাহেব নিজে তো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবে পতাকাবাহী গাড়িতে যাচ্ছেন। তারা সরকারে স্বেচ্ছায় এসেছেন। এখন যদি তারা বের হয়ে যেতে চান, আমরা বাধা দেবো না। তার বক্তব্যে এমন কোনও ইশারা কিংবা ইঙ্গিত নেই যে তারা সরকার থেকে বের হয়ে যাবে। আর আমরা এমন কোনও সংকটে পড়িনি যে তারা চলে গেলে আকাশ ভেঙে পড়বে। আমরা জনগণের মহাজোটে বেশি বিশ্বাসী।

আপনি বলেছেন মন্ত্রিসভা রদবদল হবে, সেটা কবে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আগস্টে মাসে তো হচ্ছে না। তাই আমি দ্রুত কথাটা এখন বলতে পারি না।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ১৪ দলে থাকবে কি না সেটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত, তবে আওয়ামী লীগ মনে করে জাপা জোট ছাড়বে না।