ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্যানেল স্থগিত

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নিয়োগে তিন সদস্যের ভিসি প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

১৫ জন রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েটের করা এক আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করেই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেটের বিশেষ সভা ডাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্ট এর আগে যে রুল দিয়েছিল, তা চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগ।

আদেশে বলা হয়েছে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্যই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এদিন আপিল বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুল মতিন খসরু এবং এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন।

অন্যদিকে রিটকারী রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েটদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ১৯৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্যরা ভোট দিয়ে তিনজনের একটি উপাচার্য প্যানেল ঠিক করেন, তার মধ্য থেকে একজনকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা রাষ্ট্রপতি।

সিনেটে ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেও ২৫ জন প্রতিনিধি এই সিনেটে থাকেন।

কিন্তু রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ বা নির্বাচন না করেই ২৯ জুলাই সিনেট সভা ডাকায় আপত্তি জানিয়ে আদালতে রিট আবেদন করেন ১৫ জন রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট।

এই ১৫ আবেদনকারী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খান, অধ্যাপক সিতেশ চন্দ্র বাচার, অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অধ্যাপক হুমায়ুন আক্তার, অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক এমরান কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক কে এম সাইফুল আলম খান, সহযোগী অধ্যাপক মো. হুমায়ন কবির, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহিম, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট ঢাকার এ কে এম আতিকুর রহমান, ফরিদপুরের আব্দুল জব্বার মিয়া ও বরিশালের আনোয়ার হোসেন।

তাদের আবেদন শুনে গত ২৪ জুলাই বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফারুকের বেঞ্চ সিনেট সভা স্থগিত করে দেয়।

সেই সঙ্গে ওই সভা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং সভা আহ্বান করে দেওয়া নোটিস কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দেয় হাই কোর্ট। উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রো ভিসি (শিক্ষা), প্রো ভিসি (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে গেলে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি ৩০ জুলাই শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

ছাত্র প্রতিনিধিদের বাদ রেখে সভা ডাকায় ২৯ জুলাই সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের হাতাহাতিও হয়, হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে সিনেটের সভা বসে। ১০৫ সদস্যের সিনেটের অর্ধেকের মতো সদস্য তাতে অংশ নেন।

বিএনপিপন্থি সমর্থকদের বর্জন, সরকার সমর্থকদের একাংশের আপত্তি এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে ওই সভায় ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়।

বিকল্প কোনো প্রস্তাব সভায় না আসায় বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীল দলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল অনুমোদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‍সিনেট।

নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটে মনোনীত এই তিনজনের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি একজনকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেবেন। কিন্তু আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে সেই প্রক্রিয়া আটকে গেল।

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ অগাস্ট। তবে আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, হাই কোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনিই উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।