গৌরীপুরে স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ১৪৭নং সাবদুল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ইটভাটার স্তুপকৃত মাটির কারণে বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেই সাথেবন্ধ হয়ে গেছে খেলাধুলাও। এ যেন স্কুল মাঠেই চলছে ইটভাটা। শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক জীবন গ্রাস করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ছুটি হলেও মাটির তৈরি স্তুপে খেলায় মেতে উঠেছে দ্বিতীয় শ্রেণীর দু’ ছাত্র। বই, খাতা ও কলম ও নিজের শার্ট খুলে কাদা মাটিতে এমন চেহারা ছিলো যেন ওদের চেনাই যাচ্ছে না। মাঠ পেরুলেই বিদ্যালয় তবু যাওয়া যাচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীরা জুতা হাতে নিয়ে কাঁদা ও পানি ভেঙ্গে যেতে হচ্ছে। ৪র্থ শ্রেণির পলাশ জানায়, মাঠের একপাশে ফারুক ব্রিকসের ইটভাটার মাটি স্তুপ করায় ওরা মাঠে খেলতে পারছে না। একই ক্লাসের ঝর্ণা আক্তার জানায়, কাদায় পড়ে ওর বই-খাতা ও ড্রেস ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ৩য় শ্রেণির ছাত্র নুর হোসেন জানান, পানি জমে ল্যাট্রিনও ভরে গেছে। সোমবার (২৪ জুলাই/১৭) বিদ্যালয়ে যেতেই শ’শ ছাত্রছাত্রী তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল গফুর জানান, ইটভাটার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়েই আসতে পারছে না। বিষয়টি ইটভাটার তত্ত¡াধায়ক আব্দুল আজিজকে বলার পরেও তিনি বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানাতে বলেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্ত জানান, পানি নিষ্কাশনের পথে মাটির স্তুপ করায় দু’দিন যাবত মাঠে হাঁটু পানি ছিলো। এখন কমেছে। তবে ছাত্রছাত্রীরা চলাচল করতে পারছে না। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণিতে ৩৫জন, ১ম শ্রেণিতে ৫৪জন, ২য় শ্রেণিতে ৫৬জন, ৩য় শ্রেণিতে ৩৮জন, ৪র্থ শ্রেণি ২৬জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৩০জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি থাকায় ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও।

এ দিকে ইট তৈরির মৌসুমে ছাত্রছাত্রীরাই ইটখলায় গিয়ে শ’শ ইট ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ করেন ম্যানেজার এমদাদুল হক । তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের পানি এসে ইটভাটারই বেশি ক্ষতি করছে। আমরাতো কাউকে এসব অভিযোগ দেইনা। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা মালিকদের সাথে আলোচনা করে দ্রæত সমাধান করে দিবো।

ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে ও মাঠে মাটি ভরাট অত্যন্ত জরুরী উল্লেখ করে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ আবুল কালাম জানান, দুর্ভোগের বিষয়টি মালিকদের জানানো হয়েছে। ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল হক সরকার জানান, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রæত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার জানান, স্কুল মাঠে বা তার আশপাশে যেসকল ইটভাটা রয়েছে এসব ইটভাটার ধোঁয়ায় শিশুরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।