সিকিমে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে চীন

নিউজ ডেস্ক: যেকোনো কিছুর বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করে কোনো ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। ভারতের সঙ্গে বিবাদমান সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন আরো বাড়ানো হবে বলেও নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে দিয়েছে বেইজিং।

চীন-ভুটান সীমান্ত এলাকা সিকিমের দোকলামে চীনা সেনাবাহিনীর একটি সড়ক নির্মাণ কাজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাধা দেয়ার পর প্রায় এক মাস ধরে প্রতিবেশি এ দুই দেশের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গত ৯০ বছরের ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় …. অদম্য। পিএলএ’কে ঝাঁকুনি দেয়া অত্যন্ত কঠিন, এমনকি পর্বতকে ঝাঁকুনি দেয়ার চেয়েও বেশি কঠিন

গত মাসে বিবাদমান স্থানে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাবাহিনীকে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধের আহ্বান জানায়। এসময় চীনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে ভারতীয় সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে দোকলাম থেকে চীনা সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায় ভারত।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উও কিয়ান বলেন, পারস্পরিক স্বীকৃত জাতীয় সীমানা ভারতের অংশে… চীনা ভূখণ্ডের এবং অান্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন করেছে ভারত।

তিনি বলেন, চীন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং অদম্য। চীন তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে; তা যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হোক না কেন।

চীনের এই কর্মকর্তা বলেন, চীনা সীমান্তবাহিনী ওই এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এখন সীমান্তের বিবাদমান ওই স্থানে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো হবে। তবে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি কিয়ান।

চীন-ভারত উত্তেজনায় বিদেশি সমর্থন নিজেদের পক্ষে রয়েছে উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে। ভুটান বলছে, দোকলামে চীনা সেনাবাহিনীর সড়ক নির্মাণ চীন-ভুটান চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। চীন এবং ভুটানের মধ্যে কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।

১৯৬২ সালে ভারত বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তের একটি পৃথক অংশে ভুটানের দাবির সমর্থনে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কিয়ান বলেন, ভারত যে তার অবস্থানে জয়ী হবে; এ ধরনের বিভ্রম থাকা উচিত নয় দেশটির।

তিনি বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গত ৯০ বছরের ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় …. অদম্য।

‘পিএলএ’কে ঝাঁকুনি দেয়া অত্যন্ত কঠিন, এমনকি পর্বতকে ঝাঁকুনি দেয়ার চেয়েও বেশি কঠিন।’

ভারত এবং চীন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে নিয়োজিত আছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে উভয় দেশ। তবে ভুটান প্রতিবেশি ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র।