তিন তারকার স্মৃতিচারণে হুমায়ূন আহমেদ

নিউজ ডেস্ক: একদিকে হিমু অন্যদিকে মিসির আলী আবার শুভ্র। এই তিন ঘরানার তিন চরিত্রের স্রষ্টা নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। দুর্দান্ত সব সংলাপে তিনি অনায়াসেই হাসাতেন, কাঁদাতেন। চমকপ্রদ গল্প বলার ঢংয়ে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন দুই বাংলার পাঠকেরই প্রিয় মানুষ। আজ আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পাঠকদের প্রিয়জন তিনি। সেই প্রিয়জন আজ আর বেঁচে নেই।

কিন্তু তার লেখনী আর সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া আমাদের মাঝে রয়ে গেছে, থাকবে চিরকাল। কিংবদন্তি এই লেখকের সংস্পর্শ পেয়ে আলো জ্বেলেছেন অনেকেই। তার মধ্যে অন্যতম রিয়াজ, তানিয়া আহমেদ ও মাহফুজ আহমেদ। লেখকের পঞ্চম প্রয়াণ দিবসে স্মৃতিচারণ করলেন এই তিন তারকা-

হুমায়ূন আহমেদ স্যার ছিলেন আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে একজন। ভীষণ ভালো লাগত তার লেখা। স্যার তার একজন সহকারীর মাধ্যমে আমাকে নুহাশপল্লীতে ডেকেছিলেন। এটা ২০০০ সালের কথা। হুমায়ূন আহমেদের ডাকটাই আমার কাছে ছিল অনেক বড় পুরস্কার।

নুহাশপল্লীতে আমি তার সঙ্গে যেদিন দেখা করতে গিয়েছিলাম, ঠিক সেদিনই তিনি আমাকে ‘দুই দুয়ারী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে প্রথম দেখা করাটাই ছিল সৌভাগ্যের, তার ওপর চলচ্চিত্রের প্রস্তাব। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। ‘দুই দুয়ারী’তে রহস্যমানব চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম। জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তিও ঘটে এ ছবি দিয়ে। আমার ক্যারিয়ারের পেছনে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

আমি আমার এই জীবনে যে কজন বড় মাপের মানুষের সংস্পর্শ পেয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলেন হুমায়ূন আহমেদ। খুব অল্প সময়েই তিনি আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিগুলো আমার খুব মনে পড়ে। হুমায়ূন স্যার বেঁচে থাকলে বাংলাদেশকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন। আমাদের নাটক-চলচ্চিত্র আরও সমৃদ্ধ হতো।

হুমায়ূন স্যার আমার পিতৃতুল্য মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে অনেক অনেক দিয়েছেন, তার জন্য আমি অনেক কিছু পেয়েছি। আজকের অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ হয়েছি। স্যারের ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমাকে দেননি। হুমায়ূন স্যার নেই এটা ভাবতে কষ্ট লাগে। কিন্তু সত্য যত কঠিন হোক, স্বীকার করে নিতেই হবে। আমি স্যারকে হারিয়ে বাবা হারানোর ব্যথা অনুভব করি। তিনি যেখানেই থাকুন, শান্তিতে থাকুন। তার মতো করেই আনন্দে থাকুন।