মোটা চালের দাম কমতে শুরু করেছে

নিউজ ডেস্ক: বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যটির বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা। বাজারে বর্তমান শুল্কমূল্যে আমদানি করা চালের সরবরাহ বাড়লে পণ্যটির মূল্য আরো কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে চালের চাহিদার অধিকাংশই মেটানো হয় বোরো মৌসুমের ধান থেকে। কিন্তু এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় হাওড়াঞ্চলের ধান। এ সুযোগে ভরা মৌসুমে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি পণ্যটি আমদানিতে আরোপিত শুল্কহার কমিয়ে দেয় সরকার। এর প্রভাবে রাজধানীর বাজারে মোটা চালের দাম কমতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, বিগত উৎপাদন মৌসুমগুলোয় ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন দেশের কৃষকরা। এ কারণে গতকাল শেষ হওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চাল আমদানিতে অগ্রিম আয়করসহ ২৮ শতাংশ হারে শুল্ক ধার্যের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে দেশে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর আকম্মিক বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ কয়েকটি জেলায় উৎপাদিত ধান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, যার প্রভাবে ভরা মৌসুমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে চালের বাজার। এ অবস্থায় শুল্কারোপের হার ২৮ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বাজারে নতুন শুল্কমূল্যে আমদানি করা চালের সরবরাহ বাড়লে চালের দাম কেজিতে আরো ৬ টাকা পর্যন্ত কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বাদামতলী এলাকার মেসার্স সুবর্ণ রাইস এজেন্সির আবু হানিফ বলেন, ‘দেশের বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মোটা অংকের শুল্ক দিয়েই অনেকে চাল আমদানি শুরু করেন। শুল্কহার কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি গুটি পারিজা চালের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত। আগে প্রতি কেজি গুটি-পারিজা চালের দাম ছিল ৪৭ টাকা, বর্তমানে তা ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আড়তদাররা জানান, শুল্ক কমানোয় শুধু মোটা চালের দামই কমেনি, অন্যান্য চালের বিক্রিও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অন্যান্য চালের দামও কমে আসবে। কারণ মিলগুলো থেকে চাল সংগ্রহ চাহিদা এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারণ এক ট্রাক চালে লাভ হয় ২-৩ হাজার টাকা। কিন্তু দাম কমলে লোকসান গুনতে হবে ২০-২৫ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দরপতনের সম্ভাবনায় পণ্যটির অতিরিক্ত মজুদ করে রাখা ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে চালের আড়তদারদের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর দাবি উঠেছিল অনেক আগেই।

এদিকে বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানান, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ধানের দাম বেশি। এ বছর আবাদ করে কৃষকরা ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন।

বাংলাদেশ অটোমেজর ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, বর্তমানে ধানের দাম বাড়ায় অনেক কৃষক বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে সরকারকে সরবরাহ বাড়াতে হবে।