বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি ও মহাকাশে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট

নিউজ ডেস্ক:  যেকোনো সময় ভারতের দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপনে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও ভারত।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সভাকক্ষে দুদেশের মধ্যে স্যাটেলাইট নিয়ে ‘কনসার্নিং টু অরবিট ফ্রিকোয়েন্সি কোঅর্ডিনেশন অব সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট প্রোপোজড অ্যাট ৪৮ ডিগ্রি ইস্ট’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ভারতের বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা।

৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মহাকাশে স্থাপন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে স্থাপন করা হবে তখন তার অবস্থান হবে আফগানিস্তানের কোনো এক অঞ্চলের আকাশে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অবস্থান হবে ইন্দোনেশিয়ার আকাশে।

দুটি স্যাটেলাইটের মধ্যে দূরুত্ব বিস্তর থাকায় কোনো ধরনের তথ্যগত বা কারিগরি কোনো সমস্যা হবে না বলে জানানো হয়।

মহাকাশে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট স্থাপনের পর এর ১২টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে একটি ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশ। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার হবে ৩৬ থেকে ৫৪ মেগাহার্জের। তবে এজন্য নিজ খরচায় বাংলাদেশকে দেশের যে কোনো স্থানে একটি গ্রাউন্ড স্টেশন বসাতে হবে।

এই ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন, টেলি-মেডিসিন ও ইন্টার-গভর্নমেন্ট নেটওয়ার্ক, দুর্যোগ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগ, টেলিভিশন ব্রডকাস্ট এবং ডিটিএইচ টেলিভিশন সার্ভিস সুবিধা নিতে পারবে। তবে প্রত্যেকটি দেশই বিষয়বস্তু সংযোজন ও এর ব্যবহারের জন্য দায়ী থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ‘প্রতিবেশীই আগে’। এর সুফল যেন প্রতিবেশি দেশগুলো ভালোমতো ব্যবহার করতে পারে সেজন্যই এটি মহাকাশে স্থাপন করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা বলেন, যেকোনো সময় দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট আকাশে উড়তে পারে। নির্দিষ্ট কোনো তারিখ না জানালেও এটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উড়বে বলে জানান তিনি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কারিগরি সমস্যা হতে পারে এমন কথা অনেকেই বলেছেন। তবে বিষয়টি এখন পরিষ্কার যে দুটোর মধ্যে কোনো কারিগরি বা অন্য কোনো বিষয়ে ‘ইন্টার‍্যাপ্ট’ করবে না।

এর আগে ১৯ মার্চ মন্ত্রীসভার বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে ২০১৪ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক সামিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ভারতের প্রতিবেশীদের জন্য উপহার’ হিসেবে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেন।

এই স্যাটেলাইটটি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে ভারতের প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন ঘটাবে বলে বলেন মোদি।

বৃহস্পতিবার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হকসহ বিটিআরসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।