• গোপালগঞ্জে হিরু হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি
25 May 2017 8:22 pm
Logo

প্রচ্ছদ »  গণপরিবহণ ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের দখলে, সড়ক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই

ঢাকানিউজ24 ডেস্ক | আপডেট: 6:15 May 14, 2017

গণপরিবহণ ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের দখলে, সড়ক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই

গণপরিবহণ ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের দখলে, সড়ক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই

নিউজ ডেস্ক: দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বেপরোয়া সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এই পরিবহন খাত। আইন-কানুন, নীতি- নৈতিকতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। অধিকাংশ পরিবহন ফিটনেসবিহীন, চালকদের একটি বড় অংশ অদক্ষ ও ভূয়ালাইসেন্সধারী। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় ঘটেই চলেছে। মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে।

গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এই চার মাসে ৪ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১,৪৫৯ জন নিহত এবং ৪,৫৪১ জন আহত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। আজ শনিবার পাবলিক লাইব্রেরি সেমিনার হল, শাহবাগে ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘জনবান্ধব গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনেরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। প্রবন্ধে তিনি বলেন, সিটিং সার্ভিসের নামে পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চালাচ্ছে। যেহেতু ঢাকা শহরে মানুষের তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম, সেহেতু হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে মালিকদের বাণিজ্যিক স্বার্থে সিটিং সার্ভিস চালাতে দেয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, পরিবহন মালিকরা চালক এবং হেলপারদেরকে ট্রিপ হিসেবে টার্গেট বেঁধে দেয়ার কারণে চালকেরা রাস্তায় যত্রতত্র যাত্রী উঠানোর প্রতিযোগিতা করছে। এই নির্মম প্রতিযোগিতায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। পরিবহনের শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামের সুযোগ নেই, বাথরুম টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, ফলে অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছে। ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোর সামনে যাত্রী উঠা-নামার কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই।

রাস্তার ৭০ভাগ প্রাইভেট গাড়ির দখলে, গণপরিবহনের তুলনায় প্রাইভেট গাড়ি ৩৩ গুন বেশি। অথচ এই প্রাইভেট গাড়ি মাত্র ১৩ শতাশ যাত্রী পরিবহন করছে। আর গণপরিবহন ৪৯ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে। সেকারণে গণপরিবহন এবং প্রাইভেট গাড়ির জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করলে গণপরিবহন প্রাইভেট গাড়ির তুলনায় দ্রুত চলতে পারবে। এ অবস্থায় গণপরিবহনের সংখ্যা এবং সেবার মান বৃদ্ধি করলে প্রাইভেট গাড়ির যাত্রিরাও গণপরিবহনে যাতায়াত করবে।

ফলে নগরীর যানজট ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। বিআরটিএকে শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত এবং বিআরটিসির সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে পারলে বেসরকারি গণপরিবহন মালিদের নৈরাজ্য কমবে। দেশব্যাপী অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার স্বার্থে রেল ও নৌ-পথকে উন্নত ও বিস্তৃত করা জরুরী। কারণ প্রতি লিটার তেলে সড়ক পরিবহনে ২৫ টন পণ্য পরিবহন করা যায়। সেখানে রেলে ৮৫ টন এবং নৌযানে ২১৭ টন পণ্য পরিবহন করা যায়।

দেশব্যাপী গণপরিবহনে চাঁদাবাজী বন্ধ করত হবে। জনবান্ধব গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে এই চাঁদাবাজী একটি বড় কারণ।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া বলেন, বর্তমান সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তার কোনো কথা বলা হয়নি। যদিও পুর্বের আইনে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা কিছুটা ছিল। তিনি বলেন, বিআরটিএ’র লোকবল সংকট রয়েছে। মাত্র ৪০০ পরিদর্শক সহপরিদর্শক দিয়ে দেশের প্রায় ৩০ লক্ষ মটরযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র না থাকার কারণে তারা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ পায় না।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাহবুব আলম বলেন, চালকদের ব্যক্তিগত স্কিলস বা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আধুনিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে তাদের চালকদের রোড সেফটি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে তা আমরা অনুসরণ করতে পারি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বা সমৃদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮৫ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

 

আর্কাইভ
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts