• এইচএসসির পরীক্ষার খাতা দেখছে শিক্ষার্থীরা!
23 May 2017 9:11 am
Logo

প্রচ্ছদ »  পুরস্কার ফেরত: হামিদ মিরের এ অধিকার নেই

ঢাকানিউজ24 ডেস্ক | আপডেট: 10:48 May 4, 2017

পুরস্কার ফেরত: হামিদ মিরের এ অধিকার নেই

পুরস্কার ফেরত: হামিদ মিরের এ অধিকার নেই

সৈয়দ আসিফ শাহকার:  হামিদ মির পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল জিয়ো নিউজে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর মরহুম পিতা ওয়ারিস মিরকে বাংলাদেশ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের সম্মানার্থে যে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়েছিল, তিনি সেটা ফিরিয়ে দেবেন। তিনি কোনো অ্যাজেন্ডার অংশ হিসেবে, নাকি বক্তৃতার তোড়ে এই ঘোষণা দিয়েছেন—কেউ তা জানে না।

সবাই জানে, জিয়ো টিভি পাকিস্তানের উর্দু দৈনিক জং-এর অঙ্গসংগঠন। জং এক বিচিত্র পত্রিকা। এটি সব সরকারের আমলেই ‘সত্য’ প্রকাশে সচেষ্ট ছিল। আইয়ুব খান ক্ষমতায় থাকাকালে পত্রিকাটি তাঁর সরকারের গুণকীর্তন করত। এরপর যখন ইয়াহিয়া খান তাঁকে হটিয়ে ক্ষমতায় এল, তখন পত্রিকাটি ইয়াহিয়া খানের প্রশস্তি গাইতে শুরু করল। ১৯৭১ সালে এই পত্রিকা পূর্ব পাকিস্তানে মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নকে জায়েজ করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। তারা ইয়াহিয়া খানকে নীতিমান মহান মুসলমান ও দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়েছিল।

এই পত্রিকার খবর অনুসারে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যদি কেউ নিপীড়িত বা শোষিত হয়ে থাকে, তাহলে তারা বাঙালি নয়; বরং বিহারি, আলশামস, আলবদর ও রাজাকার। জং-এর খবর হলো, ‘বাঙালি দেশদ্রোহী’ ও মুক্তিবাহিনী নামে ডাকুদের হাতে এরা নির্যাতিত হয়েছে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে তিন ঘরানার পত্রিকার অস্তিত্ব দেখা যায়: সরকারি মালিকানাধীন পত্রিকা, সুবিধাবাদী পত্রিকা ও বিরোধীদলীয় পত্রিকা। জং সেই শ্রেণির পত্রিকা, যারা কখনোই সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করেনি। বরং সব সময়ই তারা সরকারের অনুসারী ছিল। কখনো তারা সরকারের বিরোধিতা করে থাকলেও সেটা করেছে ক্ষণিকের জন্য বা নিজ স্বার্থ নিয়ে দর-কষাকষির জন্য। যখনই সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়ে গেছে, তখনই তাদের বিরোধিতার অবসান ঘটেছে। এটা শুধু এই পত্রিকা ও গণমাধ্যমগোষ্ঠীরই নয়, তাদের সব সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

হামিদ মির এই সুবিধাবাদী পত্রিকারই সৃষ্টি। এর প্রতিনিধি। পাকিস্তানের ক্ষমতাধর অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। আসলে তিনি পাকিস্তানের কোন মানুষগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন? তিনি তো দেশটির নির্বাচিত প্রতিনিধি নন।

হামিদ মিরের মতো মানুষেরা বিপণন ও বিজ্ঞাপনের জন্য রটনা রটিয়ে সময় সময় তা নিয়ে তর্কবিতর্ক করেন। সম্প্রতি এ রকম এক আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে হামিদ মির মরহুম বাবা অধ্যাপক ওয়ারিস মিরকে বাংলাদেশ প্রদত্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পদক ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এটা নীতি ও মূল্যবোধগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত।

ইতিহাসে এমন নজির আছে যে মানুষ পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষ এটা করবে। কিন্তু যিনি পুরস্কার পান, সেই মানুষটি নিজেই সাধারণত পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে থাকেন। তাঁর সন্তান বা আত্মীয়স্বজনেরা এ কাজটি করেন না। বাংলাদেশ থেকে সম্মাননাটি দেওয়া হয়েছিল অধ্যাপক ওয়ারিস মিরকে। কাজেই এটা রাখা না রাখার একমাত্র অধিকার তাঁর। তিনি হামিদ মিরকে এটা বেচে খাওয়ার, ফিরিয়ে দেওয়ার বা আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়ার অধিকার দেননি।

হামিদ মির এই সম্মাননা মোটেই পৈতৃকসূত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে পাননি। আর যদি তা ধরেও নেওয়া হয়, তাহলে শুধু একা হামিদ মির নন, তাঁর পুরো পরিবারই এটার উত্তরাধিকারী। এই সম্মাননা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলার আগে হামিদ মিরের ভাবা উচিত ছিল যে অধ্যাপক ওয়ারিস মির কুস্তি, কাবাডি বা ক্রিকেট খেলে এটা পাননি। এটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের তরফ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক। কারণ, তিনি বাঙালিদের নৃশংস গণহত্যার বিরোধিতা করেছিলেন।

ওয়ারিস মিরকে শেখ হাসিনা এই সম্মাননা দেননি। ৩০ লাখ শহীদ ও পাঁচ লাখ ধর্ষিত নারীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী একটি রাষ্ট্র এই সম্মাননা দিয়েছে। এটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলার আগে তাঁর উচিত ছিল গোলাম জিলানির কন্যা আসমা জাহাঙ্গীর এবং ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, হাবিব জালিব ও তাহিরা মাজহার আলীর সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করা।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মালিক এর রাজনীতিকেরা নন, বরং জনগণ। দুই দেশের জনগণ যদি পরস্পরকে ভাইজ্ঞান করে দেখা–সাক্ষাৎ করতে চায়, তাহলে সেখানে রাজনীতিকদের বাদ সাধার কিছু নেই। বরং তাঁদের উচিত একে অভিনন্দিত করা। ইসলামাবাদ ও লাহোরের যদি অতটা গরজ না থাকে, তাহলে তো শেখ হাসিনা বেশি কিছু করতে পারবেন না।

পাকিস্তানের ভাঙন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে প্রাণহানির কারণ খুঁজে বের করতে হামুদুর রহমান কমিশন গঠন করেছিল কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশ নয়। কথা হচ্ছে, পাকিস্তানের কোনো সরকার কি এই কমিশনের একটি সুপারিশও মেনেছে? পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর যে নিপীড়ন ও গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা কি পাকিস্তানের কোনো সরকার স্বীকার করেছে? কোনো পাকিস্তানি সরকার কি কখনো এটা স্বীকার করেছে যে বাঙালিরা বিশ্বাসঘাতক ছিল না?

হামিদ মিরের এই চালাকির রহস্য কী? কোনো একদিন হয়তো জানা যাবে, হামিদ মিরের এই কাজের পেছনে কী স্বার্থ রয়েছে।

সৈয়দ আসিফ শাহকার: ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করার জন্য কারা নির্যাতিত হয়েছিলেন।

আর্কাইভ
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Jan0 Posts
Feb0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts