নরসিংদীর পলাশে মৃৎশিল্পীদের জীবনমান থমকে গেছে

নরসিংদীর পলাশে থমকে গেছে মৃৎশিল্পীদের জীবনমান
নরসিংদীর পলাশে থমকে গেছে মৃৎশিল্পীদের জীবনমান

বোরহান মেহেদী, নরসিংদী প্রতিনিধি : নববর্ষকে ঘিরে এসময় নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করতেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার অধিকাংশ মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু গত বছর ও চলতি বছরে করোনার প্রভাবে দর্শনার্থী স্থানে বসে বর্ষবরণ মেলা। সেই মেলায় চাহিদা থাকে নানা রকমের খেলনা এবং মাটির তৈজসপত্রের।

আর মেলাকে দৃষ্টিনন্দিত করতে মৃৎশিল্পীরা নিজের হাতে নিপুণ কারকার্যে মাটি দিয়ে তৈরি করেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাড়ি (পাতিল), কড়াই, ব্যাংক, বাসন, থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, মুড়িভাজার ঝাঞ্জুর, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির তৈজসপত্র।

সরকারী নিষেধাক্কার ফলে তবে চলতি বছরসহ গত দুই বছর ধরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ ব্যবসায়। উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কুমারটেক, পালপাড়া, টেঙ্গরপাড়া ও জিনারদী ইউনিয়নের বরাব এলাকায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবে মাটির তৈরির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বাংলা নববর্ষ বরণে জেলার বিভিন্ন স্থানের মেলায় অধিকাংশ মাটির সামগ্রী সরবরাহ করে থাকেন এসব মৃৎশিল্পীরা। তাই এখানে পুরষ মৃৎশিল্পীর পাশাপাশি নারী মৃৎশিল্পীরাও সমতালে কাজ করেন। তার মধ্যে উপজেলার কুমারটেক ও পালপাড়া গ্রামে বসবাসরত প্রায় ২০টি পাল পরিবার। তাদের অধিকাংশ নারী-পুরষই শ্রমের বিনিময়ে তাদের উন্নয়নের ভিত শক্ত করেন।

নরসিংদীর পলাশে থমকে গেছে মৃৎশিল্পীদের জীবনমান

উপজেলার কুমারটেক,পালপাড়া ও বরাব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মৃৎশিল্পী দিপালী চন্দ্র পাল, নারায়ন চন্দ্র পাল, বাসন্তী পাল, জয়কৃঞ্জ পাল, নিপেন্দ্র চন্দ্র পাল, ওপেন্দ্র চন্দ্র পাল, ফনিন্দ্র চন্দ্র পাল, দেবিন্দ্র চন্দ্র পাল ও ওমেল্য চন্দ্র পালেরা তাদের খেলনা তৈরি বন্ধ করে অপলক দৃষ্টিতে চোখে-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে বসে আছেন।

মৃৎশিল্পী বাসন্তী পাল বলেন, আমাদের কাজে ছেলে-মেয়েরা সবাই সহযোগিতা করে। এ পেশাতেই সংসারে সবার মুখে ঠিকমত দু-বেলা দু-মুঠো খাবার জুটিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চলতো। এখন লকডাউন শুর হওয়ার কারণে মেলাও বসবে না। তাই পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে গেলাম। হয়তো এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

সংসারের খরচ যোগাতে ধৈর্য্যশীল দিপালী চন্দ্র পাল মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা শুর করেন প্রায় ২০ বছর আগে। সংসারের সচ্ছলতা ঠিকই এসেছিলো কিন্ত করোনায় সব শেষ করে দিচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

কিন্ত করোনার প্রভাবে তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। আরেক মৃৎশিল্পী নিপেন্দ্র পাল হতাশাগ্রস্ত হয়ে বলেন, কিছুই বুঝে ওঠতে পারছি না। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না। বৈশাখের বিক্রি দিয়েই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ৬ মাস চলতে পারি। কিন্তু গত বছর ও এবার চলতি বছরে আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিলো করোনাভাইরাস। আমাদের এখন জীবিকা নির্বাহ করার পথটি বন্ধ হয়ে পড়ছে।