পাঠক নেই বইমেলায়

পাঠক নেই বইমেলায়
পাঠক নেই বইমেলায়

নিউজ ডেস্ক : লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল সোমবার বইমেলা প্রাঙ্গণ ছিল জনশূন্য, নীরব।

বইমেলার টিএসসির গেটের দিকে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী। একজন দর্শনার্থী বেশ মজা করে বললেন, এখন মেলায় আসা দর্শনার্থীর চেয়ে বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীর সংখ্যাই বেশি হবে। আর তার পাশে সঙ্গীরা হেসে মাথা নাড়িয়ে সায় দিলেন।

এই জনশূন্য বইমেলার দোকানে বসা লোকজনের কথাটা কিন্তু ভুল না। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হলেও স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোর বিক্রয়কর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া তেমন কেউই ছিল না মেলায়। টিভি মিডিয়াগুলো বই কিনতে ও ঘুরতে আসা কাউকে পেলেই বক্তব্য নিতে তাকে ছেঁকে ধরছিল । সময় বাড়ার সাথে সাথে লোকসমাগম কিছুটা বাড়তে থাকে। তবে ১৫ লাখ বর্গফুটের মেলায় সেটি তেমন চোখেই পড়েনি।

গত রোববার রাতের কালবৈশাখী খানিকটা আঁচড় কেটে গেছে মেলার গায়ে। অন্যপ্রকাশ, আদর্শ, সাহিত্যবিলাস, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্সসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর কিছু বই ভিজেছে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ছুটে আসা বৃষ্টিতে।

প্রকাশনীর একজন বিক্রয়কর্মী জানান, রোববার ঝড়ে আমাদের স্টলের কোনো ক্ষতি না হলেও ৫০-৬০টির মতো বই ভিজে গেছে।

সারাদিন সোমবার স্টলের সামনে ত্রিপল ফেলে ভেজা বই শুকিয়েছে প্রকাশনীগুলো।
ব্যানার নাই কয়েকটি স্টলে বাতাসের বেগে উড়ে গেছে। কাঠামো শক্ত থাকায় প্যাভিলিয়নগুলোর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিক্রয়ে হচ্ছে মূল ক্ষতি । প্রথম দিন লকডাউনের বিক্রি খুব কম হয়েছে। প্যাভিলিয়নের প্রকাশনীগুলো অল্প বিক্রি করতে পারলেও স্টলগুলোর অবস্থা তথৈবচ। বিকেলে মেলার স্টল খুলে বসে আছে বিক্রেতারা ।কিন্তু এখনও কোনো ক্রেতা আসেনি বলেন তারা। তারা আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের এখানে বিক্রয়কর্মীর খরচও উঠছে না। প্রতিদিন স্টলের সাধারণ খরচই আছে ৩০০ টাকা। সে টাকার বইও তো বিক্রি করতে পারছি না।

সাহিত্যপ্রকাশে গতকাল বিক্রি হয়েছে হাজার দুয়েক টাকা, কর্মচারী কামাল হোসেনের মতে, লকডাউন দিয়ে বইমেলা খোলা রাখলে মানুষজন আসবে না। এতে উল্টো ক্ষতি হচ্ছে।