জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাষ্ট্রপ্রধানদের শুভেচ্ছা বার্তা

নিউজ ডেস্ক:  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের শুভেচ্ছা বার্তা ।

চীন
সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে যে স্বপ্নের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ, তার বাস্তব রূপায়ণে সারথি হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানালেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়ে এ আকাঙ্ক্ষার কথা জানান সি চিন পিং।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকারের কাজ করে যাওয়ার কথা স্মরণ করে সি চিন পিং বলেন, এ সময়ে দুই দেশই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নতুন পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চীনের নবতর পর্যায়ে উত্তরণের যে স্বপ্ন, তার সঙ্গে মেলবন্ধন হতে পারে সোনার বাংলার স্বপ্নের।

মানুষের জীবনমানে পরিবর্তন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশ যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, তার সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। কোভিড মহামারিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা চীন কখনো ভুলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহায়তার কথা বলেন চিন পিং। বাংলাদেশের কমবেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য এখন চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে নিজের সফরের কথা উল্লেখ করে সি চিন পিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থায়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এই আয়োজনেই চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উপহার দেওয়া হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে সি চিন পিং বলেন, একজন মানুষ তাঁর সারা জীবন দেশ ও মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তাঁর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ১৬ কোটি মানুষের এক হয়ে থাকার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করছে।

সি চিন পিং বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’, বঙ্গবন্ধুর এই নীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা আজও। বঙ্গবন্ধু চীনের দীর্ঘদিনের ও প্রকৃত বন্ধু। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে তিনি চীন সফর করেছিলেন। চীনের নেতা মাও সে তুং এবং অন্যান্য নেতার সঙ্গে তিনি মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের পেছনে সব নেতা ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সি চিন পিং। চীন–বাংলাদেশের বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি বক্তব্যের একপর্যায়ে উল্লেখ করেন।

চীনের প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং।

এক বার্তায় লি কেকিয়াং বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ গঠনে ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে অসাধারণ উৎসাহদ্দীপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।”

চীনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং
চীনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং

কোভিড-১৯ মহামারির মহামারির কথা উল্লেখ করে প্রিমিয়ার লি বলেন, মহামারিতে চীন ও বাংলাদেশ একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে এবং একে অপরের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

উভয় দেশের সমৃদ্ধিব বিবেচনায় যৌথভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) কার্যক্রমের গতি বাড়াতে চীনের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আমেরিকা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জো বাইডেনের পক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

জো বাইডেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি উদাহরণ। দেশটি আশা ও সুযোগ-সুবিধার একটি চমৎকার স্থান।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। জলবায়ু সংকট নিরসনে কাজ করতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং এতেও যুক্তরাষ্ট্র শরিক হবে।

জো বাইডেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়গুলো এ বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রাশিয়া

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন অসাধারণ নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সময়ে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীও পালন করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে শুক্রবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে পুতিনের এই বার্তা প্রচার করা হয়।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গঠনমূলক সহযোগিতা আরও বাড়বে।

ব্রিটেনের রাণীর বার্তা

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। গতকাল সোমবার লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথ
ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে পাঠানো এক বার্তায় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেন, পঞ্চাশতম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার শুভেচ্ছা। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। পঞ্চাশ বছর আগে থেকেই আমাদের মধ্যে অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, যা এখনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিগত বছরটি ছিল আমাদের জন্য একটি কঠিন বছর। আশা করি, আমরা বিশ্বব্যাপী এ স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠব। ভবিষ্যতে আরও ভালো সময়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করতে পারি।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বরিস জনসন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। আমরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে চাই।

ব্রিটিনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে (যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এসেছিলেন। যা আমাদের দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা ছিল। গত ৫০ বছরে এ বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে ছয় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা অসাধারণ।

সৌদি আরব

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

শুভেচ্ছা বার্তায় তারা রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে দেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান সৌদি রাজপরিবারের সদস্যরা। সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আগমুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশা ও যুবরাজ।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

এদিকে এ উপলক্ষে এক বার্তায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসেফ আল-দুহাইলান বলেছেন, মহান ও সৌভাগ্যবান এই উদযাপনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, একই বছরে একই সঙ্গে দুটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান উদযাপন করছে বাংলাদেশ, যা ইতিহাসে বিরল। এ উপলক্ষে অনেক আশীর্বাদ বাংলাদেশের জন্য। একই সঙ্গে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা অর্জনে আপসহীন সংগ্রাম ও ত্যাগের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাই। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এই দোয়া করছি।

জাপান

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর যৌথ আয়োজনের উদ্বোধনীতে দেয়া ভিডিও বার্তায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। বলেন, ৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে ক’টি দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৭২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সঙ্গে জাপানিজদের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন। জাপানকে ঐতিহাসিকভাবে বাঙালিরা বন্ধুরাষ্ট্র মনে করে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুই এশিয়ার জাপান ও বাংলাদেশ এই দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠার প্রথম রূপকার। বাংলাদেশ থেকে জাপানে বঙ্গবন্ধুর শীর্ষ সফরের সময় জাপান-বাংলাদেশ আর্থিক সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর জাপান ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাপান সফরের সময় শেখ মুজিবুর রহমান স্বভাবগতভাবেই ইচ্ছা প্রকাশ করে কয়েকবার বলেন, তিনি জাপানের মডেলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মি. তানাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘তিনি যেন আমাদের হিরোভূমি ইতো’। ইতো ছিলেন জাপানের প্রধান জাতীয় নেতা।

কানাডা

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনীতে প্রচারিত ভিডিওবার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৯৮৩ সালের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর পরিবর্তন দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

১৯৮৩ সালে তার পিতা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি যখন আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলাম ওই সময় থেকে বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ের থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, দরিদ্রতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। ফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

একজন ব্যক্তির কারণে ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করে দেখিয়েছেন- জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন মানুষকে। ট্রুডো বলেন, আজকে আমরা উৎসব করতে পারছি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ার ভিশনের কারণে।

এটি সম্ভব হয়েছে এদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য। আমার পিতার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় সম্পর্ক ছিল। ওই সময় থেকে দুই দেশ দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমূল রূপান্তর হয়েছে এবং এই পথযাত্রায় কানাডা অংশীদার হিসাবে আছে। আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছি এবং নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা করছি। শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা।

পাকিস্তান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন ইমরান খান।

শুভেচ্ছা বার্তায় ইমরান খান বলেন, ‘আমার পক্ষে এবং পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষে আমি বাংলাদেশের ৫০তম বার্ষিকীতে আমাদের অভিনন্দন জানাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। মরহুম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন তার প্রতি আপনার এবং বাংলাদেশের মানুষের গভীর আবেগ এবং শ্রদ্ধার প্রতিফলন’।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ভ্রাতৃসূলভ সম্পর্ককে পাকিস্তান গভীরভাবে অনুধাবন করে। তার মতে, এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল ইতিহাস, বিশ্বাস এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে। এই সম্পর্কের উদ্দেশ্য টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলসহ সমগ্র বিশ্বের উন্নয়ন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী আমাদের দু’দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের দূরদর্শিতার কথা মনে করিয়ে দেয়, এ কারণেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এতটা প্রিয়। এ দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ উপলব্ধিতে পাকিস্তান অকৃত্রিম অংশীদার হিসাবে রয়েছে। আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নতুন করে গড়ে তুলতে চাই, কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের দুই দেশের ভাগ্য জড়িত রয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘এ উপলক্ষে আসুন আমরা আমাদের জনগণের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য যৌথভাবে কাজ করার আমাদের সংকল্পকে নবায়ন করি’।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দু’দেশের গভীরতর সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুব দ্রুততম সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সফর দু’দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ জীবন, স্বাস্থ্য ও সুখ এবং ভ্রাতৃত্বকামী বাংলাদেশিদের অবিচ্ছিন্ন শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম