অনিন্দ‍্য অনন্য জনতা ব্যাংকের মুজিব কর্নার

অনিন্দ‍্য অনন্য জনতা ব্যাংকের মুজিব কর্নার
অনিন্দ‍্য অনন্য জনতা ব্যাংকের মুজিব কর্নার

মো:শেখ ফরিদ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ পরর্বতী নতুন প্রজন্মকে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পকে জানতে, একটি সমৃদ্ধ মুজিব কর্নার জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর প্রধান কার্যালয়ে উদ্বোধন হয়েছে।

সেই সাথে উদ্বোধনী স্মরণিকাতে অর্থমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বাণী প্রকাশনাটি সংরক্ষণ যোগ্য ও সমাদ্বৃত হচ্ছে।

এক পলক দেখতে ভিড় জমাচ্ছে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।মুজিব কর্নারটি ব্যাংক গ্রাহক সহ সকল দর্শনাথীর জন্য উন্মুক্ত্। ১৯৭২ এর বাংলা শব্দে রাষ্ট্রীয় বৃহৎ চার বানিজ্যিক ব্যাংকের নামকরণে দুর্লভ প্রামান্য ঐতিহাসিক দলিল স্থান দখল করে আছে মুজিব কর্নারে।

লিফ্ট থেকে নেমে প্রথম চোখ পড়বে, লাল সবুজের পতাকার আদলে ছায়া পতাকার উপর, বঙ্গবন্ধুর কিছু দুস্প্রাপ্য ছবি।প্রতিটি ছবি ফ্রেম বন্ধী করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী পাভেল রহমান।এযেন ছবি নয় জীবন্ত বঙ্গবন্ধু।

ভিতর প্রবেশ করতেই চোখ পরে সবুজ অক্ষরে বড় করে লেখা মুজিব কর্নার ও সাদা কালো বঙ্গবন্ধুর উর্ধ্বে তর্জনী সংবিলিব্ধ একটি ছবি।ঠিক তার মাথার উপর লেখা লাল সবুজ অক্ষরে জয় বাংলা স্লোগান।এযেন বঙ্গবন্ধু যাদুঘর।

লাইব্রেরীতে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্নজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন ও শেখ রেহানা সম্পাদিত বাংঙ্গালির কলঙ্কম্মোচন বইসহ আখতার হুসেন এর সম্পাদনায় জনকের মুখ এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কিত অসংখ্য বই বুক সেলফের প্রতি তাকে তাকে সাজানো।

বঙ্গবন্ধুর স্ব-হস্তে লেখা বঙ্গমাতার উদ্দেশ্য চিঠি ও বঙ্গবন্ধুর প্রিয় জ্যেষ্ঠ কন্যা হাসু মনি শেখ হাসিনাকে লেখা চিটি বলে দেয় বঙ্গবন্ধুও এজন পিতা। আজও মনে হবে সদ্য লেখা শেষ করেছে বঙ্গবন্ধু। চিঠি দু’টি আরো বহুগুণে সমৃদ্ধ করে তুলেছে মুজিব কর্নারটি।

চিঠি পড়ে ডানে তাকাতেই মনে হচ্ছিল লাখো মানুষের সামনে দাড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুত্তির সংগ্র্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।৭ই মার্চ সোহরাওয়াদী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণ স্বরণে আচড় কাটবে মনে।

হঠাৎ চোখ স্থির হয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহ্নত চশমা আর পাইপ দেখে।সংঙ্গে নৌকাও রয়েছে পিতলে মোড়ানো রেপ্লিকা বঙ্গবন্ধু সর্ম্পকে জানতে আরো আগ্রহী করে তুলবে।বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে।

পাথরে খোদাই করা বঙ্গবন্ধুর মরাল পাশে শোভা পাচ্ছে এবং জিগাংসু মনকে উসকে দিচ্ছে ১৯৫২ থেকে ১৯৭৫ উত্তর ইতিহাস জানতে।সম্মান জানানোর ভাষা খুজে পাচ্ছিনা মুজিব কর্নার নির্মাণের দিক নির্দেশকসহ এরকম উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ঠ মানুষ জনদের।

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম মুখর জীবন সম্পর্কে জানতে প্রেরণা যোগাতে প্রামাণ্যচিত্র কোষ মুজিব কর্নারটি ব্যাপকতা এনে দিয়েছে।একটি কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু এবং মুত্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে জানতে ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।মুজিব শতবর্ষে ও স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তীতে একটি কক্ষে সমৃদ্ধ মুজিব কর্নার ঐতিহাসিক ও আদর্শের একটি চর্চা কেন্দ্র বলে মনে হয়।

কর্নারটির ব্যাপ্তি আরো বৃদ্ধি করেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বংশ তালিকা।বাদ যায়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে বিক্ষাত উক্তি “আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি।ব্যত্তিত্ব ও সাহসিকতায় উনি হিমালয় তুল্য”।ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

জনতা ব্যাংকের মুজিব কর্নারটি শৈল্পিক মানের দিকটি নি:সন্দেহে অনন্য উচ্চতায় এবং আধুনিক থেকে উত্তর আধুনিক।

মুজিব কর্নারের কক্ষটির মাঝে গ্লাসে খোদাই করা ছবি দৃষ্টিনন্দন ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে।মনোমুগ্ধকর লাইটিং বলে দেয় সফল সুন্দর কারুকাজের কথা।

স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে মুজিব কর্নার উদ্বোধন, জাতীর পিতাকে সম্মান জানানোর ঐতিহাসিক পন্থা বৈকি! এধরনের যুগান্তকারী উদ্যোগ ৫০ বছর পরে গ্রহণ করায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা অবনত প্রদর্শণের অসংখ্য মাধ্যমের একটি মাত্র।

বঙ্গবন্ধুকে জানতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে বঙ্গবন্ধু কর্নার সময়োচিত একটি বিষয়।নিজ দেশ সর্ম্পকে জানার প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।তবেই সচেতনতা বাড়বে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আরো সুন্দর হবে।
বঙ্গবন্ধুর মুজিব কর্নার দেখার আহবানে শুভকামনা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ।