৭ই মার্চ উদযাপন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

কর্মসূচি ঘোষণা করছেন সংস্কৃতি কে এম খালিদ প্রতিমন্ত্রী
কর্মসূচি ঘোষণা করছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ

সুমন দত্ত: প্রথম বারের মতো ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণ উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে শনিবার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। তিনি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পুরো সূচি ঘোষণা করেন। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফিন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি , সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। পাশাপাশি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা , মুক্তিযুদ্ধের অমর শহিদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধাগণকে, যাদের আত্মত্যাগের কারণে দেশ আজ স্বাধীন। আরো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ১৫ আগস্টে শাহাদাত বরণকারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও অন্যান্য শহিদদের।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ৭ মার্চ ২০২১ তারিখে সূর্য উদয় হওয়ার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকাল ৩ টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

অনুষ্ঠানে করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে ৫০০ অতিথিকে বসার আয়োজন করা হয়েছে। বাকী অতিথিগণ অনলাইনে অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। এদিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এক যোগে দেশের সকল মিডিয়ায় একই সময়ে প্রচার করা হবে। এছাড়া সম্মেলন কেন্দ্রে দিনটির ওপর একটি ডকুমেন্টরি দেখানো সহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

তিনি আরো বলেন, এ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করবে। উভয় মন্ত্রণালয় নিজ নিজ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

ঢাকাসহ সকল জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ জাতীয় দিবস উপলক্ষে নবীন প্রবীন শিল্পী রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে নিম্নক্ত অনুষ্ঠান আয়োজ করবে।

১. শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেবে বিশিষ্ট আবৃত্তিকারও।
২. বিশিষ্ট সংগীত ও নৃত্য শিল্পীগণের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৩. বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন নিয়ে নাটক মঞ্চায়ন।
৪. বঙ্গবন্ধু নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদশর্ণী
৫. চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
৬. আলোকচিত্র প্রদর্শণী
৭. স্কুল কলেঝের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন( বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও নৃত্য।)

এছাড়া ৭ই মার্চ উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে তোরণ নির্মাণ করা হবে। হাতির ঝিল, আহসান মঞ্জিলসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে আতশবাজি পোড়ানো হবে। এতে দুইটি সিটি কর্পোরেশন সহযোগিতা করবে।

বিদেশি মিশনগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি দেখতে পারবে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

এদিন  সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সচিব বদরুল আরেফীন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম