ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও ছাত্রফ্রন্ট নেতাদের মুক্তি দাবি বাসদের

সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বাসদ নেতারা
সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বাসদ নেতারা

নিউজ ডেস্ক: জেল কাস্টডিতে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর পর বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে লাগাতার বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার মশাল মিছিলে পুলিশ নির্মমভাবে হামলা করে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করে। মিছিল থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য আরফাত সাদ এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। লেখক মুশতাকের মৃত্যু এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক-লেখক-শিক্ষক-রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে সারাদেশ যখন বিক্ষুব্ধ, এরই মধ্যে খুলনার শ্রমিক নেতা রুহুল আমিনকে এই কালো আইনে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, লেখক মুশতাকের জেল কাস্টডিতে মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার এবং মুশতাক ও কিশোরের উপর পুলিশের নির্যাতনের বিচারের দাবিতে বাসদ (মার্কসবাদী) আজ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার বিকাল ৪টায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য মানস নন্দীর সভাপতিত্বে ও ঢাকা নগর শাখার ইনচার্জ নাঈমা খালেদ মনিকার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড ফখ্রুদ্দিন কবির আতিক, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “বাক-স্বাধীনতাবিরোধী ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনমুখর বাংলাদেশ। এই কালো আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক-লেখক-কার্টুনিস্ট-শিক্ষক-রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রকে পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষের অসন্তোষকে প্রতিবাদে পরিণত হতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ সরকার। তাই এ ধরনের জঙ্গলের আইন আওয়ামী লীগ সরকার পাশ করিয়েছেন ও যথেচ্ছা ব্যবহার করছেন। করোনাকালীন সময়ে সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির নগ্ন চেহারা প্রকাশের পর থেকে এই আক্রমণ তীব্রতা পেয়েছে।

কারাগারে নির্যাতন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে লেখক মুশতাক মারা যান বলে সবাই মনে করেন। কারাগারে হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক আছেন। তারা কী করছিলেন? গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন তাকে নেয়া হয়, তখন তিনি মৃত ছিলেন। তাঁর শরীর কখন খারাপ হয়েছিল, কীভাবে খারাপ হয়েছিল, কী চিকিৎসা তখন তাকে দেয়া হয়েছিল-কিছুই কারা কর্তৃপক্ষ খুলে বলছেন না। স্বাভাবিক মৃত্যুই যদি হয়, তাহলে সেটা তো সেদিনই সাথে সাথে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন। আজ আটদিন পার হলেও এত বিতর্কিত এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আমরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাইনি। উপরন্তু জামিনে ছাড়া পাওয়া কিশোর তাঁর এবং মুশতাকের উপর নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেটা নির্মম ও অমানবিক। এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন দিনের পর দিন চললে যে কারও মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই এই মৃত্যুকে কোনো অবস্থায়ই স্বাভাবিক বলে দেশের মানুষ মানতে পারছেন না।”

মুশতাকের মৃত্যুর পর তীব্র আন্দোলনের চাপে পড়ে সরকার কিশোরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বক্তারা অন্য বন্দীদের মুক্ত করার জন্য, মুশতাকের মৃত্যু ও কিশোর-মুশতাকের উপর নির্যাতনের বিচারের জন্য এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও আরও তীব্র করার আহ্বান জানান।

সূত্র. প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ঢাকানিউজ২৪ডটকম