বর্তমান সময়ের তারুণ্যের অহংকার সাদ্দাম হোসেন সম্রাট

বর্তমান সময়ের তারুণ্যের অহংকার সাদ্দাম হোসেন সম্রাট

বিনোদন ডেস্কঃ   নতুনদের মধ্যে বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি নাম সাদ্দাম হোসেন ওরফে সম্রাট। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার একটি পল্লী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পরিবারে রয়েছেন মা, বাবা, তিন ভাই, তিন বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী আর মা গৃহিনী।

ছোট থেকেই যে ছেলেটির স্বপ্ন ছিলো একজন অভিনয় শিল্পী হওয়ার। সেই সুবাদে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করে ভর্তি হন আবুল হাসেম খান উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুল অবস্থায় তিনি যেখানেই খবর পেতেন মঞ্চ নাটক, গান, নাচ ও নতুন সিনেমা আর সেগুলো দেখার জন্যে স্কুল বাদ দিয়া ছুটে যেতেন। তিনি বলেন, স্কুলে বই-খাতা রেখে বন্ধুদের নিয়ে চলে যেতেন। ২০ টাকা দিয়া সাইকেল ভাড়া করে দত্তের বাজার তানিয়া সিনেমা হলে। সেই জন্যে টিচারের বকা খেতেন বহু সময়। তবে সব টিচাররা উনাকে খুব আদরও করতেন বিনোদন পাগল বলে।

শৈশবে নিজেদের আম গাছ, জাম গাছ প্রায় সব ধরনের ফল গাছ থাকার পরও পরের গাছের আম, জাম, কাঠাল পেরে খেতেন। তিনি বলেন শৈশবটা উনি খুব আনন্দে কাটান বন্ধু বান্ধবদের সাথে যা বর্তমান ছেলে মেয়েরা করার সুযোগ নেই। তিনি ২০০৯ সালে এস এস সি পাস করে ভর্তি হন বরমী ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে ২০১১ সালে এইচ এস সি পাস করে ছুটে আসেন ঢাকা শহরে। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন “রাষ্ট্রবিজ্ঞান” বিভাগে।

কিন্তু উনার মন বসেনি সেই চিন্তায় কবে তিনি অভিনয়ে যোগ দিবেন কিভাবে দিবেন। হঠাৎ করে একটি টিভির ধারাবাহিক নাটক তালকানার নতুন মুখের বিজ্ঞাপনের সন্ধানের মাধ্যমে অডিশন দিতে যায় গাজীপুরের পুবাইল মেগলা শুটিং স্পর্টে। সেখানে সবার মধ্য থেকে সিলেক্ট হন তিনি। তবে পরে জানা যায় আর কাউকেই উনারা নিবেন না।

তার পরও তিনি মনোবল হারাননি। স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন অভিনয় শিল্পী হওয়ার। ওখান থেকে সোহান নামের এক ছেলের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন। সোহান একটি থিয়েটারে কাজ করতেন। তখন তিনি সোহানের মাধ্যমে খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিকের থিয়েটার মঞ্চ মুখে ভর্তি হন। অভিনয়ের হাতেখড়ি শুরু করেন। দক্ষ্যতার সাথে মঞ্চে একাধারে বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে কাজ করে যান। তারপর উনার থিয়েটার ওস্তাদ খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিকের হাত ধরেই গাজীপুর শিল্পকলায় নাট্য কলা বিভাগে দুই বছরের কোর্সে ভর্তি হন। তখন শিল্পকলায় শেনানুল ইসলাম শাহি স্যারের মাধ্যমে মঞ্চনাটক মগের মুল্লুকযা মঞ্চস্থ হয় ঢাকা শিল্পকলাতে। তার পর আদর্শলিপি ইত্যাদি বহু মঞ্চ নাটকে কাজ করে যান।

একাধারে দীর্ঘদিন অভিনয়ের উপর পড়াশোনা করে স্বপ্ন দেখেন মিডিয়াতে কাজ করার টিভি নাটকে। তখন তিনি যোগ দেন টংঙ্গীর একজন বড় মাপের অভিনেতা ও পরিচালক আমিন শাহর সাথে। যাকে তিনি মিডিয়ার ওস্তাদ বলে মানেন। উনার হাত ধরেই অনেক টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তার মধ্যে এমনতো প্রেম হয়, বৃন্দাবনের রাধা ইত্যাদি। তবে এমনতো প্রেম হয় নাটকটি সবাই খুব পছন্দ করে গ্রহন করেন। তারপর থেকে সবার সাথে কাজ করে যান। ডিজিটাল আকাশের টেলিফিল্ম ভালোবাসার শক্তি দিয়া আরো আলোচিত হন।

সুজন অতিথীর নাটক মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা, তিতামধু, মা ছেলের কীর্তন ইত্যাদি বহু টিভি নাটকে অভিনয় করেন। এই অভিনেতা বর্তমানে অনার্স, মাস্টাস শেষ করে নিজেও নাটক রচনা ও পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তার লেখা ধারাবাহিক নাটক আমরা সবাই পাগল। এতে অভিনয় করেন সাদ্দাম হোসেন, পায়েল চৌধুরী, হুমায়ন কবির, ঈমান আলী, সুজন অতিথী, সেলিম, সবুজ সর্দার, সালমান, ওহি, আশা মনি ইত্যাদি আরো অনেকে।

সাদ্দাম হোসেন সম্রাটের লেখা নাটক গুলো হলোঃ প্রেমিকা বাড়ি উঠছে, মর্ডান ঘর জামাই, দুই সতীনের সংসার, গাছে বউ, শাশুড়ীর ভালোবাসা, নারীর জন্য, এটা কেমন ভালোবাসা, দজ্জাল বউ, চাচাতো বোনের প্রেম। এ ছাড়াও ওনি অনেক সমাজ সচেতনমুলক ছোট ছোট গল্প লিখেন। যা তিনি নিজেই পরিচালনা করে থাকেন।

তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিনয়টাই আমার প্রধান পেশা। সব সময় অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শকের মনে স্থান করে নিতে চাই। ভালো কিছু গল্প উপহার দিতে চাই। আপনি কি রচনা ও পরিচালনা জায়গাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অভিনয়টাই আমি বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। আমি প্রত্যেকটা যায়গাই গুরুত্ব দিয়া কাজ করে থাকি। তবে বর্তমানে এই গুনি অভিনেতা দক্ষ্যতার সাথে নিজের দুটি ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যদের কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলে কাজ করে যাচ্ছি।