ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে

সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরি, ,হারুন হাবীব,মনজরুল আহসান বুলবুল, দিপ্তী এলাঙ্গা
সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরি, ,হারুন হাবীব,মনজরুল আহসান বুলবুল, দিপ্তী এলাঙ্গা

সুমন দত্ত: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের সাহায্য সহযোগিতার কথা কখনও ভুলবে না বাংলাদেশ। এদিন ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিক হারুন হাবীব তার লেখা একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শীর্ষক সেমিনারে এসব মন্তব্য করে দেশের জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা। ইমক্যাব আয়োজিত এই সেমিনারে এদিন উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ মধুর। তারপরও মাঝে মাঝে এই সম্পর্ক কেন দাগ, ক্লেশ হয় সেটা ভাববার সময় আছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। ভারত এদেশের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত বিশাল। মাঝে মাঝে এখানে অনুপ্রবেশ হয়। তবে সেটা যেন হত্যাকাণ্ডের রুপ না নেয়। কেউ যদি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যায় তাকে যেন আটক করা হয়, জেলে দেয়া হয়। মোট কথা বিচার করা হয়। এই আশা প্রতিবেশী হিসেবে আমরা করতেই পারি। তিনি আরও বলেন, করোনায় এই মহামারীতে ভারত বাংলাদেশকে করোনার ভ্যাকসিন দিচ্ছে। এতে ভারতীয় সরকারের সহায়তা রয়েছে। তাদের সাহায্য ছাড়া এটা হতো না। তিনি তার জন্য ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ধন্যবাদ দেন। তাদের এই উপকারের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

মনজুরুল আহসান বুলবুল ভারতের লেখক সাংবাদিক খুশবন্ত সিং ও বাংলাদেশের প্রয়াত অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের স্মৃতিচারণ করে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, খুশবন্ত সি তার ট্রেন টু পাকিস্তান বইতে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি গ্রামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে পড়ে। আর এটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মহাভারতের তিনটি চরিত্রের কথা বলেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব।  ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু সংরক্ষণ করেন, শিব ধ্বংস করেন। বাংলাদেশ ও ভারতে এই তিন শক্তি আছে। আমাদের উচিত ব্রহ্মার সঙ্গে বিষ্ণুর ঐক্য ধরে রাখা। শিব ধ্বংস করে। এই সম্পর্কে সজাগ থাকা। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পর এই শিব আসে। যারা ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ করেছে। শুধু জাল টাকা ছাপিয়ে নয়। উত্তর পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতা বাদীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে এই বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসে এসব বন্ধ করেছেন। বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে আর কেউ এখন ব্যবহার করতে পারবে না। ড. আনিসুজ্জামান সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতে স্যারের অনেক বন্ধু প্রশ্ন করেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কেমন দেশ হবে। তখন আনিসুজ্জামান স্যার বলেছিলেন এটি একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হবে, ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র হবে। আনিসুজ্জামান স্যার দু:খ করে সেদিন বলেছিল আমার কথা মিথ্যা ফলেছে। এদেশ সাম্প্রদায়িক হয়েছে, যে কারণে পূর্ণিমার মতো ঘটনা ঘটে। তিনি ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কের কথা বলেন। শেখ মুজিবের জন্মদিনে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার কথা স্মরণ করেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ভারতের ত্রিপুরাকে ফেনী নদীর পানি দেই অথচ তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাহায্য সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে কোভিট ভ্যাকসিন নিয়ে যে আলোচনা তার প্রশংসা করেন। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সরকার পর্যায়ে যে সম্পর্ক তেমনটা এক দেশের জনগণের সঙ্গে আরেক দেশের জনগণের নেই। এইখানে কাজ করতে হবে বলে তিনি গুরুতারোপ করেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক স্মরণ করার জন্য একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের প্রস্তাব করেন। তিনি বর্তমান হাইকমিশনারে সাফল্য কামনা করেন। তিনি যাতে দুই দেশের সম্পর্ক আগের চাইতে আরও উপরে নিয়ে যেতে পারেন সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম