বঙ্গবন্ধু’র জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্রের শুটিং চলছে মুম্বাইয়ে

বঙ্গবন্ধু’র জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্রের শুটিং চলছে মুম্বাইয়ে
বঙ্গবন্ধু’র জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্রের শুটিং চলছে মুম্বাইয়ে

নিউজ ডেস্ক:   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিং চলছে মুম্বাইয়ে। ছবিটিতে তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল ফেরদৌসের। বৃহস্পতিবার জানানো হলো– তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে ফেরদৌস নয়, অভিনয় করছেন রিয়াজ। ইতোমধ্যে রিয়াজ মুম্বাইয়ে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন।

‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার বাংলাদেশ অংশের লাইন প্রডিউসার ও নির্মাতা মোহাম্মদ হোসেন জেমি। তিনি বলেন, ‘ফেরদেৌসের পরিবর্তে তাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের চরিত্রে অভিনয় করছেন রিয়াজ। তিনি ক’দিন আগে শুটিংয়ে অংশ নিতে মুম্বাই গিয়েছিলেন। আবার ফিরেও এসেছেন। আরও কয়েকবার যাবেন। মূলত শুটিংয়ের জন্য যাওয়া-আসার মধ্যেই থাকতে হবে।’

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ায় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে ভারত সরকার। এ জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে বলে সে সময় খবর প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যম।

এই ভিসা জটিলতার কারণেই কি ফেরদৌসের পরিবর্তে রিয়াজ? এমন প্রশ্নের উত্তরে জেমি বলেন, ‘শুধু এই কারণেই না। নানাবিধ কারণ রয়েছে। সেসব কারণ আসলে আমাদের প্রডাকশন কনফেডিয়ানশিল ব্যাপার। কিন্তু যেটা হয়েছে নির্মাতার পছন্দেই হয়েছে। রিয়াজ নিঃসন্দেহে একজন ভালো অভিনেতা। ফেরদৌসও ভালো একজন অভিনেতা। সেখানে রিয়াজকে পছন্দ করা হয়েছে। এটা আসলে দীর্ঘমেয়াদি একটা প্রসেস ছিলে। ফেরদৌসও বিষয়টি স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করেছে বলে আমার বিশ্বাস।’

এই বায়োপিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে আরিফিন শুভ, শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া, শেখ রেহানার চরিত্রে সাবিলা নূর ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর মা শেখ সায়েরা খাতুনের চরিত্রে অভিনয় করবেন দিলারা জামান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চরিত্রে থাকবেন তৌকীর আহমেদ। এছাড়াও খন্দকার মোশতাকের ভূমিকায় ফজলুর রহমান বাবু, বঙ্গবন্ধুর বাবা লুৎফর রহমানের চরিত্রে খায়রুল আলম সবুজ, একে ফজলুল হকের চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু, আবদুল হামিদ খান ভাসানী চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ, শেখ রেহানার চরিত্রে দীঘি ও তিশাকে দেখা যাবে।

তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আরও তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাকে বন্দি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখানেই ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বন্দি অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে তিনি নিহত হন।