পুলিশকে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার দেয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশকে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার দেয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্ত হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার।

তিনি বলেন, ‘হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনসহ দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা এবং নজরদারি বাড়ানোর ক্ষেত্রে পুলিশ আরও দক্ষতার সাথে তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

হেলিকপ্টার দুটি গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি টু জি) পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে কেনার জন্য আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশ এবং হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এবং রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্স এর মহাপরিচালক আন্দ্রে আই. ভোগেনিস্কি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ডিআইজি (লজিস্টিকস) তওফিক মাহবুব চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়া পরস্পর পরীক্ষিত বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার, সেনাবাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়া বিশেষভাবে সহযোগিতা করছে।
সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রথমবারের মতো পুলিশে দুটি হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে জনগণের নিরাপত্তাবিধানে আরও গতিশীলতা আসবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজনের মধ্য দিয়ে পুলিশের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এয়ার উইং চালুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর ফলে জরুরি অপারেশন পরিচালনায় পুলিশ সদস্যদের পরিবহন, খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম সম্পাদনে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তিনি পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজনে অনুমোদন প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্সের মহাপরিচালক আন্দ্রে আই. ভোগেনিস্কি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রাশিয়ার সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারস্পারিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশকে হেলিকপ্টার সরবরাহের মাধ্যমে এ সহযোগিতা আরও স¤প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সুত্র: বাসস