কমিউনিটি রেডিওর প্রচারে কমছে ভয় ও সন্দেহ, বাড়ছে চাহিদা

নিউজ ডেস্ক:     কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর টিকাদান বিষয়ক প্রচার কমছে জনগণের ভয় ও সন্দেহ, বাড়ছে চাহিদা দেশের চলমান কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকাদান বিষয়ক প্রচারনার ফলে গ্রামীণ জনগনের মধ্যে টিকা নেওয়ার প্রতি ভীতি এবং পার্শ্ব প্রক্রিয়া সম্পর্কিত ভুল ধারনা বা সন্দেহ দূর হচ্ছে। পাশাপাশি টিকা গ্রহণের প্রতি তাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ্য গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে দেশের কমিউনিটি রেডিওগুলোতে টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ও চাহিদা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু হয় বিশেষ প্রচারাভিযান।

উক্ত প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হলো- সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ, টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক মিথ্যা তথ্য চিহ্নিতকরণ ও গতানুগতিক ভুল ধারণা, গুজব, ডাহা-মিথ্যা এবং বিস্তার রোধ করার জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনগণের জীবন ও জীবিকা সহজতর করা , সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং টিকা গ্রহণ পরবর্তী সম্ভাব্য শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে দলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যেমন- নাপিত, ঝাড়–দার, মুচি, কামার, জেলে, হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ভূক্ত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিতকরণ।

কমিউনিটি রেডিওগুলো কোভিড-১৯ টিকাদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও অপপ্রচার প্রতিরোধ বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। অনুষ্ঠানগুলো হলো- স্থানীয় পর্যায়ে টিকাদান বিষয়ক সংবাদ, টিকাগ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার/অভিজ্ঞতা, স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত কোভিড-১৯ টিকাদান কমিটির সদস্যবৃন্দ যেমন – জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলা/উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার, রেডিও স্পট/নাটিকা, কথিকা, জিঙ্গেল,ভক্সপপ, পাবলিক সার্ভিস এনাউন্সমেন্ট (পিএসএ) ইত্যাদি।

রেডিও অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য এবং আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে কোভিড-১৯ এর টিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে তথ্য প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেডিওর সম্প্রচারভূক্ত এলাকায় ভ্যাকসিন প্রথমে যাদের দেয়া হবে, ভ্যাকসিন যেভাবে পাওয়া যাবে এবং ভ্যাকসিন নেয়ার পরে করণীয় এবং কোন ধাপে কারা করোনার টিকা পাবেন সে সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সুষ্ঠু ভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম-২০২১-এর সাথে যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর ঠিকানা, টিকাদান সংক্রান্ত ভুল তথ্য ও গুজব-এর ক্ষতিকর /নেতিবাচক প্রভাব এবং মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ক তথ্যও অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পাশাপাশি কোন কোন রেডিও স্টেশন তাদের কার্যালয়ে জন্য কোভিড-১৯ টিকা নিবন্ধন সহায়তা ডেস্ক চালু করেছে। যেখানে রেডিওর সম্প্রচারকারীরা সাধারন জনগনকে নিবন্ধন করতে সহায়তা করছেন।

কমিউনিটি রেডিওতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারন জনগণ জানতে পারছে এবং টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে অল্পবিস্তর সচেতনতা ও চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক রেডিওর এই প্রচারাভিযান অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই জন সাধারনের মধ্যে টিকা গ্রহণে এখন যে ভীতি ও দুটানা কাজ করছে তা কমে আসবে। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য চিহ্নিতকরণ ও গতানুগতিক ভুল ধারণা, গুজব,ডাহা-মিথ্যা এবং অপপ্রচার বিস্তার রোধে জনগন আরো সচেতন ও সচেষ্ট হবে। যা তাদের জীবন ও জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া টিকাদান কর্মসূচিতে দলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ভূক্ত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যম বিকাশের জন্য বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-র দৃষ্টিভঙ্গি হলো জ্ঞান-নির্ভর প্রাসঙ্গিক সংবেদনশীলতা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে মিডিয়া, তথ্য ও বিনোদনের ভবিষ্যত গঠনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া পরিবেশের তৈরি চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলো বিবেচনায় রেখে কন্ঠহীনের কন্ঠস্বর হিসেবে কমিউনিটি রেডিওর উন্নয়ন করা।

গত বছর মার্চ মাসে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই বিএনএনআরসি বাংলাদেশে সম্প্রচাররত সকল কমিউনিটি রেডিও স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক রেডিও অনুষ্ঠান তৈরি ও সম্প্রচারের জন্য কাজ করছে।

কমিউনিটি রেডিওগুলোতে নিয়মিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কি কি করণীয় সে সংক্রান্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ফলে গ্রামীণ জনপদে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, শ্রোতারা ফোন কল, ক্ষুদে বার্তা প্রেরণে এবং ফেসবকু লাইভে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করে উত্তর জানতে পারছে, এবং জনসাধারণ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এখন তারা এ সম্পর্কে তথ্য পেয়ে সচেতন হচ্ছে। ফলে কমিউনিটি রেডিও বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।