শততম টেস্টে দুরুন্ত সেঞ্চুরি জো রুটের

সেঞ্চুরি করার পর জো রুটের উল্লাস

নিউজ ডেস্ক: তারকারা বরাবরই বড় মঞ্চে জ্বলে উঠতে পছন্দ করেন। জো রুটের ধ্রুপদী ব্যাটিং সেটাই আবার প্রমাণ করল। চিপকে শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন রুট।

স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে বিপুল প্রত্যাশা ছিল ইংল্যান্ড সমর্থকদের। কারণ, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে তিনি ২২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। পরের টেস্টে উপহার দিয়েছিলেন ১৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। সাফল্যের সেই ধারা ভারতের মাটিতে অব্যাহত থাকে কিনা সেটাই ছিল দেখার। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রুট শুধু রেকর্ড বুকে নাম লেখালেন না, সেইসঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি, স্টিভ স্মিথদের থেকে তিনি কোনও অংশে কম নন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতার পর অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ছিঁড়ে খাবে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু চিপকে প্রথম দিনে ভারতের নির্বিষ বোলিং দেখে শুধুই হতাশা আর আপসোস। আসলে পরিকল্পনার সঠিক রূপায়ণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে রুট বাহিনী। সেই সঙ্গে টসে জেতার বাড়তি সুবিধাও পেয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথম দিনে রান বেশি না উঠলেও, মাত্র তিনটি উইকেটই ফেলতে পেরেছেন ভারতীয় বোলাররা। তার মধ্যে যশপ্রীত বুমরাহর একাই ফিরিয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যানকে। অপর উইকেটের মালিক অশ্বিন। বাকিরা শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত ঘুরিয়ে গিয়েছেন। কুলদীপ যাদবকে বসিয়ে রাখা ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলবে। বোলিংয়ে প্রাণ ফেরাতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত অসুখ খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখা দরকার, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিততেই হবে টিম ইন্ডিয়াকে। অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্য রাহানেরা যত তাড়াতাড়ি ভুলবেন, ততই মঙ্গল। কারণ, এই ইংল্যান্ড দলে ভারসাম্য অনেক বেশি। উপমহাদেশের পিচে খেলার অভ্যাস রয়েছে রুট, স্টোকসদের। তাই ভুল শুধরে দ্বিতীয় দিনে নতুন করে শুরু করতে হবে কোহলি বাহিনীকে।

ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ররি বার্নস ও ডম সিবলে যোগ করেন ৬৩ রান। একটা সময় মনে হয়েছিল লাঞ্চের আগে উইকেট ফেলতে পারবে না টিম ইন্ডিয়া। ঠিক তখনই কোহলির মুখে হাসি ফোটান অশ্বিন। তাঁর স্পিনে পরাস্ত হয়ে বার্নস ৩৩ রানে কট বিহাইন্ড হন। কিছুক্ষণের মধ্যে বুমরাহর বলে লেগ বিফোর হয়ে শূন্য হাতে মাঠ ছাড়েন ড্যানিয়েল লরেন্স। জোড়া ধাক্কায় কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে সেই ফায়দা নিতে ব্যর্থ ভারতীয় বোলাররা।

লাঞ্চের পর ভারতকে চেপে ধরে ইংল্যান্ড। এক্ষেত্রে প্রশংসা করতেই হবে তরুণ ওপেনার সিবলের। উইকেট বাঁচিয়ে বড় ইনিংসের ভিতটা গড়ে দেন তিনি। ফলে রুটের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ২০০ রান। রুটের ব্যাটিং দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, ভারতীয় স্পিনারদের মোকাবিলা করার যাবতীয় প্রস্তুতি সেরেই তিনি নেমেছেন। মূলত বিভিন্ন রকমের স্যুইপ শটকে হাতিয়ার করে সুন্দর, শাহবাজদের ক্লান্ত করে দেন তিনি। চোট সারিয়ে ফেরা ইশান্ত শর্মা মোটেও ফর্মে নেই। উল্টোদিক থেকে চাপ বাড়ানোর সঙ্গী না থাকায় অশ্বিনকেও বড় অসহায় লেগেছে। সেই ফায়দা কাজে লাগিয়ে ১৬৪টি বলে শতরানে পৌঁছে যান রুট। ২৮৬ বল খেলে সিবলের সংগ্রহ ৮৬ রান। রুট ১৯৭টি বল খেলে ১২৮ রানে অপরাজিত। হাঁকিয়েছেন ১৪টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি। ইংল্যান্ড অধিনায়ককে দ্রুত ড্রেসিং-রুমে ফেরাতে না পারলে কোহলিদের কপালে দুঃখ রয়েছে।

প্রথম দিনের স্কোর: ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে- বার্নস ক পন্থ বো অশ্বিন ৩৩, সিবলে এলবিডব্লু বো বুমরাহ ৮৭, লরেন্স এলবিডব্লু বো বুমরাহ ০, রুট ব্যাটিং ১২৮। অতিরিক্ত ১৫, মোট ৮৯.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৬৩। উইকেট পতন: ১-৬৩, ২-৬৩, ৩-২৬৩। বোলিং: ইশান্ত ১৫-৩-২৭-০, বুমরাহ ১৮.৩-২-৪০-২, অশ্বিন ২৪-২-৬৮-১, নাদিম ২০-৩-৬৯-০, সুন্দর ১২-০-৫৫-০।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম