শ্রীমঙ্গল থেকে বিষাক্ত লাল ঢোরা সাপ উদ্ধার

বিষধর লাল ঢোরা সাপ
বিষধর লাল ঢোরা সাপ

মো.জহিরুল ইসলাম,মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার থেকে বিষধর লাল গলা ঢোরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

লাল ডোরা কাটা সাপটির ইংরেজী নাম (Red necked-keelback) ।এই সাপটি যদি কাউকে ছোবল দেয় তাহলে এটির চিকিৎসা বাংলাদেশে করানো সম্ভবন নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব ।

সোমবার (১ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭ টায় একটি বিষাক্ত বিষধর লাল ঢোরা সাপ দেখে স্থানীয়রা। শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারের দোকানীরা প্রানী সেবা ফাউন্ডেশনের লোকদের খবর দিলে তারা সাপটি উদ্ধার করে। লাল ঢোড়া সাপটি বাংলাদেশে খুব কম রয়েছে। এটি বসবাস করে পাহাড়ে জঙ্গলে।

লাল গলা ঢোড়া Red necked-keelback বৈজ্ঞানিক নাম (Rhabdophis subminiatus) এই সাপ দেখতে পুরো ঢোড়া সাপের মত শুধু মাথা থেকে গলা পর্যন্ত একটু লাল রঙের। এই সাপের সকল বৈশিষ্ট্য নির্বিষ সাপদের অনুরূপ। তাকে স্থানও দেওয়া হয়েছে নির্বিষ সাপদের শ্রেণিবিন্যাসীয় পরিবার Colubridae তে। তবে কেন এই সাপ বিষধর?

এই লাল গলা ঢোড়া সাপের বিষদাঁত সুগঠিত নয়। এই সাপের সামনের দাঁত গুলো এমনি ঢোড়া সাপের মত তবে পেছনে ফ্যাঙ্গ (বিষদাঁত) আছে পেছনে ফ্যাঙ্গ সমৃদ্ধ সাপদের (Opisthoglyphous snake) বলে।পেছনে বিষদাঁত হওয়ায় এরা সব কামড়ে বিষ প্রবেশ করাতে পারেনা।তবে এদের বিষথলি থেকে কামড়ে কেউটে সাপের অনুরূপ বিষ

প্রবেশ করাতে পারে যার পরিমান ১.২৫ মি.গ্রা./কেজি। এরা শুধু বিষধর নয় এরা বিষাক্তও বটে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, বন থেকে লোকালয়ে চলে এসেছিল সাপটি। আজ সকালে স্থানীয়রা আমাদের খবর দিলে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। সাপটি সুস্থ অবস্থায় আছে। । ধারণা করা হচ্ছে সাপটি পাহাড় থেকে কলা বোঝাই করা জীব গাড়ি দিয়ে আসতে পারে ।

তিনি আরোও বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে আমরা কথা বলেছি, আজ বিকালে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় উদ্যানে সাপটি অবমুক্ত করার কথা রয়েছে ।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম