স্বপ্নাকে জেল খাটালো ভূমিদস্যু আক্তার, জড়িত মন্ত্রী-এমপির লোকজন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন স্বপ্না আক্তার, পাশে অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী মন্ডল

সুমন দত্ত: ভূমিদস্যু ও প্রতারক অনলাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি ও হয়রানি অভিযোগ এনেছে এক নারী উদ্যোক্তা।

অনলাইন আক্তারের এইসব কুকর্মকে পিছন থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস মনির ও ঢাকা-১৭ আসনের এমপির পিএ শিপন র‍্যাব-৪ এর সিপিসি-৩ সদস্য এসআই মো. কাওছার ও ডিএডি মো. ইফতেখার। প্রশাসনের এসব লোককে অর্থের বিনিময়ে কিনে অনলাইন আক্তার চক্রান্ত করে নারী উদ্যোক্তা স্বপ্না আক্তারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ৮ মাস জেল খাটিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করে আসছে।

উচ্চ আদালতের আদেশে স্বপ্না আক্তার জামিনে বের হয় শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

স্বপ্না আক্তারে সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। আরো ছিলেন আইনজীবী ফিরোজ আলী মন্ডল। এছাড়া অনলাইন আক্তারের হাতে জমি হারানো কয়েকজন ব্যক্তি।

স্বপ্না আক্তার বলেন, সাবেক এই জামাত নেতা অনলাইন আক্তার তার কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। মাটিকাটা এলাকায় একটা খাবারের দোকান দিলে অনলাইন আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয়। তাকে কিছু টাকা দিলে লাভ পাইয়ে দেবে। এমন প্রতিশ্রুতিতে স্বপ্না আক্তারের কাছ থেকে টাকা নেয় অনলাইন আক্তার। এই টাকা গ্রহণের বিপরীতে অনলাইন আক্তার দুটি চুক্তি করে। সেই চুক্তি অনুসারে দুই দফায় মোট ৬৮ লক্ষ টাকা নেয় সে। পরে এই টাকা দিতে অস্বীকার করলে আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয় স্বপ্না। আদালতে অনলাইন আক্তার টাকা ফেরত দিবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা দিয়ে জামিন গ্রহণ করে বের হয়ে আসে। পরে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে আসার আগেই ১৮/১১/২০১৩ তারিখে মামলা খারিজ করায়। এরপর থেকে অনলাইন আক্তার স্বপ্নার বিরুদ্ধে তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, তার ৫১৭/১ হোল্ডিং এর জায়গায় অনলাইন আক্তার লোক পাঠিয়ে তার ভাড়াটিয়াকে মারধর করে। সেই জমিতে লাগানো সাইনবোর্ড ভাংচুর করে অনলাইন আক্তারের লোকজন। এ ঘটনার জন্য আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়ে পাইনি। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর গ্রামে ফিরে আসলে সেখানে অনলাইন আক্তারের পৃষ্ঠপোষক এস আই কাওসারকে দেখতে পাই। সে আমার মৎস্য খামারের ক্রেতা পায়েলকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসে। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। তখন আমাকে ঢাকা নিয়ে আসতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস মনির ও ঢাকা ১৭ আসনের এমপির পিএ শিপনের সঙ্গে লাউড স্পিকারে কথা বলতে শুনি। আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসার কথা বলে তারা।

এসময় আমাকে নবীনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার উপর নির্যাতন করে। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। টাকা বিনিময়ে আমি সেই যাত্রায় রক্ষা পাই। র‍্যাব পুলিশ পাহারায় যখন আমি ঢাকায় আসতে থাকি তখন পথের মধ্যে অনলাইন গ্রুপের ৬ জন সদস্যকে আমি চিনে ফেলি এরা র‍্যাবের পোশাকে ছিল। অন্যরা মাস্ক পড়ে থাকায় আমি তাদের চিনতে পারিনি। আমাকে মাদক ও জাল টাকার মামলায় ফেলে ৮ মাস জেলে রাখে এরই মধ্যে অনলাইন আক্তার আমার নামে আরেকজনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করায়। এছাড়া বাড়ি এ জানতে পারি র‍্যাবের অভিযানে আমার বাড়ি থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে।

আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি ন্যায় বিচার চাই।

অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী মন্ডল বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তাকে কীভাবে প্রভাব খাটিয়ে আনলাইন আক্তার তার কাজ হাসিল করল তা সবাই জানলেন। মাটি কাটার এই ভূমিদস্যু প্রশাসনের লোকজনকে বড় বড় গিফট দিয়ে সবাইকে কব্জা করে ফেলেন। এজন্য ওই এলাকায় তার বিরুদ্ধে কিছু করা যায় না। প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে। তবে গত ৯ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় প্রশাসন এখন নড়ে চড়ে বসেছে। কিন্তু তাতে তার দাপট একটু্‌ও কমেনি, আগের মতই বহাল তবিয়তে আছে অনলাইন আক্তার।

তিনি বলেন এই অনলাইন আক্তার এর আগে গোলাম আযমের ছেলের সঙ্গে ব্যবসা করত। ঢাকায় পিস টিভির যে স্কুল ছিল তার মালিক ছিল এই অনলাইন আক্তার। পরে এর নাম পরিবর্তন হয়। অনলাইন আক্তার একজন শিবির এজেন্ট। জামাতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থায়ন করে থাকে। তারপরও সরকারের একটি অংশের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দেখে সবাই অবাক হোন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম