ক্ষতিপূরণ দিয়ে সানোফিকে দেশ ছাড়তে বলল শ্রমিক নেতারা

বক্তব্য রাখছেন নুরুজ্জামান রাজু মাঝে সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী ও রাজেকুজ্জামান রতন

সুমন দত্ত: কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুয়িটি ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার আহবান জানিয়েছে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেড ওয়ার্কার্স এমপ্লোয়িজ এসোসিয়েশন (রেজি: নং বি-২২০৭)। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান রাজু ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী। এদিন তাদের সঙ্গে উপস্থিতি ছিলেন শ্রমিক ও বাসদ নেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।

নুরুজ্জামান রাজু বলেন, সানোফি বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এটা সবাই জানেন। এ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আমাদের বক্তব্য শুধু সানোফিতে কর্মরত ১০০০ হাজার কর্মচারীর পাওনা ও ক্ষতিপূরণ মেটানোর বিষয়ে। সানোফির ম্যানেজমেন্ট আমাদের পাওনা পরিশোধ করতে টালবাহানা শুরু করেছে। যার কারণে আমাদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সানোফির লোকাল ও গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের কাছে আমরা দাবি পেশ করেছিলাম। তারা আমাদের দাবি পাশ কাটিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যা দেশের ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের লঙ্ঘন।

সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী বলেন, দাবি আদায় না হওয়ায় আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছিলাম। এমন সময় সানোফি ম্যানেজমেন্টের কিছু কর্মকর্তা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। গত ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে সানোফি বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুঈনউদ্দিন মজুমদার ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি নুরুজ্জামান রাজুকে সরাসরি হুমকি প্রদান করে। আমাদের সংবাদ সম্মেলন করতে বাধা দিয়ে আসছে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাওনা ক্ষতিপূরুণ না দিয়ে বিদেশি কোনো কোম্পানি ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ছাড়েনি। সবার বকেয়া পাওনা ক্ষতিপূরুণ দিয়েই সবাই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আমরা মনে করি এই সানোফি কোম্পানিতে ৪৫% শেয়ার আছে বিসিআইসির( বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন) বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের। এ কারণে বিষয়টি দেখভালের জন্য সরকার, বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বিদেশিরা আমাদের অনেক উপদেশ দেয়। তাদের উচিত সানোফি বাংলাদেশে কি করছে তা জানা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আমাদেরকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক হতে বলেন। এদিকে তাদের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে এসে ক্রীতদাস কেনা বেচার মতো কাজ করছে। সানোফির এই লোকজন কোথায় চাকরি করবে। তাদের ক্ষতিপূরুণ না দিলে তারা কিভাবে জীবন যাপন করবে? প্রভিডেন্ট ফান্ড তো তাদের নিজেদের অর্থ। সেটা কেন দেবে না কর্তৃপক্ষ। এভাবে চলতে পারে না। আমরা অবশ্যই এটা নিয়ে সবার কাছে যাবো। এই কোম্পানিতে কাজ করতে করতে যাদের ৪০ এর উপর বয়স হয়ে গেছে তারা কোথায় যাবে চাকরি করতে। তাদেরকে কি সেই বেতনে চাকরি দিবে অন্য কোনো কোম্পানির মালিক পক্ষ? যাদের যৌবন চলে গেল এই কোম্পানিতে চাকরি করতে করতে তাদের কি হবে? তাই ক্ষতিপূরুণ দিয়ে তাদের এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী বলেন, ১০০ কোটি টাকা হলে তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুয়িটির সমস্যাটা মিটে যায়। তবে তারা ১০ বছরের গ্রস ইনকাম ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছেন। তাতে কত টাকা লাগবে সেটা তারা হিসেব করেননি।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম