কলকাতায় নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালিত

নিউজ ডেস্ক: সরকারি উদ্যোগ, সব রাজনৈতিক দল, অজস্র ক্লাব-প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে শনিবার কলকাতা সংলগ্ন চার জেলায় মহা সমারোহে পালিত হল নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহানায়ককে মানুষ শ্রদ্ধা জানালেন নানাভাবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে নেতাজির জন্মজয়ন্তী উদযাপন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যেন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বামেদের দেশপ্রেম দিবস, বিজেপির পরাক্রম দিবস, তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের দেশনায়ক দিবস—নানা নামে নেতাজি-পুজো হয়েছে এদিন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের কোদালিয়ায় নেতাজির পৈতৃক ভিটেতে মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে স্কুলপড়ুয়ারা ভিড় করে। করোনা পরিস্থিতির জন্য ভিতরে ঢোকা-বেরনোর ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ছিল। তার মধ্যেই পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষজন নেতাজির ব্যবহৃত আসবাবপত্র, বিছানা ইত্যাদি দেখেন। দর্শনার্থীদের ঢোকার আগে নেতাজির পৈতৃক ভিটে জীবাণুমুক্ত করা হয়। নেতাজি সংগ্রহশালায়ও দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ জারি ছিল। এদিন পৈতৃক ভিটে পরিদর্শনে যান বারুইপুরের মহকুমা শাসক এবং সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক জীবন মুখোপাধ্যায়। ছিলেন সোনারপুর রাজপুর পুরসভার প্রশাসক ডঃ পল্লব দাস। সেখানে গিয়ে নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করেন সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। বিকেলে অসমের গুয়াহাটি থেকে ১২ জনের একটি দল ভিটেবাড়ি ঘুরে দেখতে এসে পৌঁছয়। এদিন বারুইপুর পুরসভা ও যুব কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে পদ্মপুকুর সংলগ্ন উড়ালপুল থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। জেলার নানা জায়গায় বহু অনুষ্ঠান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। হাওড়া জেলা প্রশাসনের তরফে নিউ কালেক্টরটে ভবনের তিনতলায় নেতাজি স্মরণের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন মহকুমা ও ব্লকস্তরেও সরকারিভাবে নানা অনুষ্ঠান করা হয়। তবে বালি এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপির যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এদিন হয়েছে, তার সূত্রপাতও শুক্রবার রাতে নেতাজি স্মরণকে কেন্দ্র করেই হয়েছে বলে জানা যায়। এলাকার লোকজনের বক্তব্য, এসবের মধ্যে আর নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানানো হল কই! হুগলিতে মহকুমা ও ব্লকভিত্তিক উদযাপন করে প্রশাসন। গান, আবৃত্তি, অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের উদ্যোগে সুদৃশ্য ট্যাবলো সহ শোভাযাত্রা বের হয় এদিন। ওয়েলিংটন জুট মিলের মাঠে ছাত্র সংগঠন এসএফআই নানা অনুষ্ঠান করে। রিষড়া লোকাল কমিটির সভাপতি শুভম হেলা বলেন, দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে নেতাজির আদর্শ আজ বড় বেশি প্রাসঙ্গিক। উত্তর ২৪ পরগনায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের খড়দহ, সোদপুর, কামারহাটি, বরানগর সহ নানা জায়গায় বহু অনুষ্ঠান হয়।

চাকদহতে এদিন নেতাজির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দিল্লির কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে প্রায় ২৫০ ট্রাক্টর নিয়ে মিছিল হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী সমিতির তরফে এই আয়োজন করা হয় বলে জানান সংগঠনের মেন্টর মনোজকুমার চক্রবর্তী। খড়দহে গঙ্গার পাড়ে ফেরিঘাটে নেতাজির ব্রোঞ্জের মূর্তি বসানোর কাজের শিলান্যাস হয়। বারাসতে রথতলা মাঠে নেতাজি স্মরণ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষ। হেলাবটতলা মোড়ে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে নেতাজি স্মরণ অনুষ্ঠান হয়।
সূত্র. দৈনিক বর্তমান

ঢাকানিউজ২৪ডটকম